দ্বিতীয় দিনেও পুঁজিবাজার সূচকের উন্নতি, কমেছে লেনদেন

সূচক বাড়াল বড় মূলধনের চার কোম্পানি

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবারের পর গতকাল বুধবারও ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় শেয়ারবাজারে সব সূচক ঊর্ধ্বমুখী থেকে লেনদেন শেষ করে। যদিও দিনের প্রথম ভাগে বড় ধরনের উত্থানের পর কিছুটা বিক্রয়চাপ তৈরি হয়, পরে তা সামলে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সূচক বাড়লেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে এবং লেনদেনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৩৪ দশমিক ০১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৭৪ দশমিক ৪০ পয়েন্টে। সকালে সূচকটি ৫ হাজার ১৪০ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে। প্রথম এক ঘণ্টায় সূচক প্রায় ৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৯০ পয়েন্টে উঠে যায়। এরপর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিক্রয়চাপে সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ১৬৫ পয়েন্টে। তবে দ্রুতই এ চাপ কাটিয়ে ওঠে বাজার। দিনের বাকি সময় বড় কোনো বিক্রয়চাপ না থাকায় সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি বজায় রেখেই লেনদেন শেষ হয়। এ দিন ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১১৪ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে দিনশেষে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৫০৬ দশমিক ০৮ পয়েন্টে। সকাল শুরু হয়েছিল ১৪ হাজার ৩৯১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট থেকে। সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচকও এ দিন যথাক্রমে ১৩৩ দশমিক ৫৬ ও ৬৯ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বেড়েছে।

সূচকের উন্নতির মাঝেই উভয় বাজারে লেনদেন কমেছে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৬৩৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৬০ কোটি টাকা কম। মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন ছিল ৬৯৩ কোটি টাকা। একইভাবে সিএসইতে লেনদেন নেমে এসেছে আট কোটি টাকায়, যেখানে আগের দিন ছিল ১৩ কোটি টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দিনের শুরুতে সৃষ্টি হওয়া বিক্রয়চাপ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তোলে, ফলে লেনদেনের গতি কমে যায়। যদিও পরে বাজার ঘুরে দাঁড়ায়, তবুও নতুন করে বিক্রয়চাপের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সাবধানী ছিলেন। তারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সংশোধনের পর যেকোনো সময় বাজার আবার গতি পেতে পারে।

গতকাল সূচকের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখে কয়েকটি বড় মূলধনী কোম্পানি। ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের শেয়ারদর বৃদ্ধিই মূলত সূচককে ওপরে তুলেছে। ব্যাংক খাতের অন্য কোম্পানিগুলোর দর খুব বেশি না বাড়লেও এই তিন ব্যাংক দিনের শুরু থেকেই লেনদেন ও দরবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল। টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রামীণফোনও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। কোম্পানিটির ৩৮ লাখ ৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়, যার আর্থিক মূল্য ছিল ২৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের লেনদেন হয় ২৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। শীর্ষ দশে আরও ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, পদ্মা অয়েল, ইসলামী ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইতে শীর্ষে ছিল পূবালী ব্যাংক, যার দর বেড়েছে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। এরপর ইসলামী ব্যাংক ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি এমপ্লয়িজ মিউচুয়াল ফান্ড, মীর আক্তার, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ও চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

অন্য দিকে দরপতনে শীর্ষে ছিল এফএএস ফিন্যান্স ও পিপলস লিজিং- দুটোরই দর কমেছে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ডিএসইর দরপতনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে প্রিমিয়ার লিজিং, দেশ গার্মেন্টস, ফারইস্ট ফিন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফ্যামিলিটেক্স, ডেফোডিল কম্পিউটার, ভিএফএস থ্রেড ও রানার অটোমোবাইলস।