জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানের (৩২) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদি হয়ে নিহতের স্ত্রীসহ পাঁচজনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকীপোতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি জীবননগর উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছিলেন। তিনি স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি (২৯) ও সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল আরফানকে নিয়ে জীবননগর পৌর এলাকার আশতলাপাড়ার শরীফ উদ্দীনের বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার থানাপাড়ার মজিবর রহমানের মেয়ে নাসরিন আক্তার ইতির সাথে মাহমুদুর রহমানের বিয়ে হয়। বর্তমানে ইতি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে ইতি অভিমান করে বাবার বাড়ি চলে যান। প্রায় দেড়-দুই মাস আগে উভয় পরিবারের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপস-নিষ্পত্তি হলে তারা আবারো একসাথে সংসার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারো তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ইতি সন্তানকে নিয়ে বাসার বাইরে চলে যান। এরপর মাহমুদুর রহমান ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে মাহমুদুর রহমানের পিতা আতাউর রহমানের দাবি, তার ছেলেকে স্ত্রীর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তারা যখন থানায় অবস্থান করছিলেন, সেই সুযোগে মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী, তার শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক ও ভগ্নিপতি ভাড়া বাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সব মালামাল ও শিশু আরফানকে নিয়ে পালিয়ে যান।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের পাশাপাশি নিহতের পিতা বাদি হয়ে একটি লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা- সেই প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।



