ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনো প্রশ্নবিদ্ধ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষের দিকে। আর মাত্র দু’টি ম্যাচ বাকি। তৃতীয় স্থান নির্ধারনি ও ফাইনাল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু আগ থেকেই নানান বিতর্ক যার নিত্যসঙ্গী। তার ফিফা সভাপতি নির্বাচন এখনো প্রশ্নের মুখে। বারবার তার বিরুদ্ধে ওঠে আর্থিক দুর্নীতি-পপাতের অভিযোগ। তবে এসবের মাঝেও তিনি নিজের জায়গায় অনড়। সফলভাবে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছেন।

জিয়ানি ইনফান্তিনোর মূল বার্ষিক বেতন ২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁতে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে তার বার্ষিক বোনাস এক ধাক্কায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। আগে যা ছিল ১৬.৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২২ লাখে; অর্থাৎ শুধু বোনাস বাবদই বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। এ ছাড়াও তিনি ২৪ হাজার সুইস ফ্রা অনুদান হিসেবে পান। ফিফা সভাপতির বেতন বাড়ল কেন? আসলে গত বছর কাব বিশ্বকাপে দারুণ সাফল্য পেয়েছে ফিফা। সে কারণেই বেতন বৃদ্ধি ইনফান্তিনোর। আসলে কাব বিশ্বকাপ এবং আমেরিকার মাটিতে চলতি বিশ্বকাপে বিরাট রোজগার বেড়েছে ফিফার। সে কারণেই ইনফান্তিনোর বেতন ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে খবর।

চলতি বিশ্বকাপে ফিফা সভাপতির সবচেয়ে দৃষ্টিকটু বিতর্কটা ছিল আমেরিকার ফুটবলার বালোগুনের লালকার্ড বাতিল। অভিযোগ সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তেেপ আমেরিকার ওই স্ট্রাইকারের লাল কার্ড বাতিল করেছেন ফিফা সভাপতি। ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তও চেয়েছে। যদিও ফিফার সাফ দাবি, ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফার বিচারবিভাগ। সেটার সাথে সভাপতির কোনো সম্পর্ক নেই।

যেভাবে আমেরিকার বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়েমি চোখ বুজে সহ্য করে গেছেন তিনি; যা ঝড় তুলেছে বিশ্বজুড়ে। কখনো ফুটবলারদের সাথে বাজে আচরণ। ইরান ফুটবলারদের আমেরিকায় বেশিণ থাকতে না দেয়া। রেফারিকে ঢুকতে না দেয়া, এমন বিবিধ অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। সেই সাথে রয়েছে রেফারিং ও ভিএআর বিতর্ক।

অবশ্য বিতর্ক শুধু বিশ্বকাপে নয়। ফিফা সভাপতি হওয়া নিয়েও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১৬ সালে তাকে ফিফা সভাপতি হতে অনৈতিকভাবে বাধা দেয়া হয়েছিল। ইনফান্তিনোসহ পাঁচ ফুটবল কর্তার বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করেছেন সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার।

সেপ ব্লাটারের পরে ফিফা সভাপতি হিসেবে প্লাতিনিকেই এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ব্লাটারের একটি আর্থিক লেনদেনের সাথে প্লাতিনির নাম জড়িয়ে তাকে ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হতে বাধা দেয়া হয়। ২০১৫ সালে ফিফার এথিক্স কমিটি প্লাতিনিকে আট বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠায়।