বোয়ালমারী-সালথা সীমান্তে সংঘর্ষে আহত ৩০, আটক ২

Printed Edition

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত চারদিন লাগাতার হামলা, সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে গতকাল রোববার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে দুইপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার সকালেও ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ মানবতাবিরোধী মামলার সাজা স্থগিত হওয়া মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ছেলে। অপর দিকে, মান্নান মাতুব্বর খাড়দিয়ার মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে আগে থেকেই বৈরিতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে মামলা মাথায় নিয়ে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরে মান্নান মাতুব্বর ময়েনদিয়া বাজারের উপর একাধিপত্য গড়ে তুলেন। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এলাকায় ফিরে আসেন। সেই থেকে মাঝে মধ্যেই এই দুই দলের মধ্যে হামলা-মামলা ও সংঘর্ষ চলছে। স্থানীয় বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে টানা কয়েক দিনের হামলা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় আবারো সংঘর্ষ শুরু হতে পারে- এমন আশঙ্কায় দোকানপাট খোলা নিয়েও উদ্বিগ্ন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, রাজনৈতিক প্রভাব ও বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই বিরোধে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনও জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সোমবার বিকেলে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর দু’জনকে আটক করা হয়েছে। পরে দুইপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে দুই উপজেলার প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।