সংসদ প্রতিবেদক
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ হাতবদল, নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নরসিংদী-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো: আশরাফ উদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় ঠিকাদাররা ভারী প্রোফাইলের জোরে কাজ বাগিয়ে নিয়ে পরে তা স্থানীয় অযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে গোপনে বিক্রি করে দেন। এতে মূল কাজের বাজেট কমে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করে বিদ্যমান সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল রোববার সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মো: আশরাফ উদ্দিনের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী এ কথা জানান।
আশরাফ উদ্দিন বলেন, দেশের গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বাস্তবায়ন করছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় এলাকার কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেয়া হচ্ছে। এসব ঠিকাদার নিয়মিত কাজ তদারকি করেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও অবগত নন। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ বাড়ছে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে যখন একটি কাজ কয়েক দফা হাতবদল হয়ে স্থানীয় অযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে চলে যায়। এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে নেয়ায় প্রকল্পের প্রকৃত বাজেট কমে যায়। পরে সেই ঘাটতি পূরণ করতে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়, যা কাজের মান ধ্বংস করছে। অথচ স্থানীয় পেশাদার ঠিকাদারদের সুযোগ দেয়া হলে তারা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা ও জনচাহিদা সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহির কারণে অধিক দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন।
নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এলজিইডির আওতায় সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬ (পিপিএ) এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী মূলত দু’টি পদ্ধতিতে কাজ সম্পাদন করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট জেলার ঠিকাদাররাই অংশ নিতে পারেন। তবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে দেশের যেকোনো অঞ্চলের ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুযোগ পান।
সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন ই-জিপি পদ্ধতির অপব্যবহার এবং অতীতের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ের কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার কাগজে-কলমে শক্তিশালী প্রোফাইল দেখিয়ে ই-জিপির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাজ পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা নিজেরা কাজ না করে পর্দার আড়ালে থেকে স্থানীয় অযোগ্য লোকদের কাছে কাজ বিক্রি করে দেন। ফলে কাজের ব্যয় সঙ্কুচিত হয়ে নি¤œমানের মালামাল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এই অনিয়ম রোধে সরকারের পদক্ষেপ কী, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের এই বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ অবগত। কাজের ক্ষতিকর হাতবদল ও অনিয়ম বন্ধে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সাথে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। যোগ্য স্থানীয় ঠিকাদারদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর মান বজায় রাখতে বিদ্যমান সরকারি ক্রয় আইন ও পিপিআর কিভাবে পর্যালোচনা বা সংশোধন করা যায়, তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।



