ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েও যখন পিছিয়ে পড়েছিল এশিয়ার দলটি, তখন মনে হচ্ছিল সুযোগ নষ্টের মূল্য দিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোয়াং ইন-বমের অসাধারণ পারফরম্যান্সে চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মেক্সিকোর জাপোপানে গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করে ম্যাচের নায়ক হন হোয়াং। বদলি হিসেবে নেমে ৮০ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন ও হিয়ন-গ্যু।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে ঘিরে গড়ে ওঠা আক্রমণগুলো বারবার চেক রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। প্রথমার্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা পায়নি তারা। সনের কয়েকটি প্রচেষ্টা গোলরক্ষক মাতেই কোভার ঠেকিয়ে দেন, আবার কিছু শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে চেকিয়া পুরো প্রথমার্ধে তুলনামূলকভাবে রক্ষণ সামলানো এবং কাউন্টার আক্রমণের ওপর নির্ভর করে। ম্যাচের গতি খুব বেশি না থাকায় বিরতির সময় দর্শকদের মধ্যেও কিছুটা অসন্তোষ দেখা যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও দক্ষিণ কোরিয়াই বেশি আক্রমণ চালালেও প্রথম গোলটি পায় চেকিয়া। ৫৯ মিনিটে দীর্ঘ থ্রো-ইন থেকে সৃষ্ট সুযোগে অধিনায়ক লাদিসøাভ ক্রেইচি হেড করে বল জালে পাঠান। পুরো ম্যাচে খুব বেশি আক্রমণ না করেও প্রথম কার্যকর সুযোগ থেকেই এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া, তবে তারা দ্রুত নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে।
৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। লি কাং-ইনের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতরে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখান হোয়াং ইন-বম। শট নেয়ার ভান করে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোল ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। সমতায় ফেরার পর দক্ষিণ কোরিয়া আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং চেকিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে থাকে।
এরপর ৭৮ মিনিটে চেকিয়া আবারো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ফ্রি-কিক থেকে টমাস সৌচেকের হেড জালে গেলেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। সেই সিদ্ধান্তের মাত্র দুই মিনিট পর দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচের নির্ধারণী আঘাত হানে। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে নিখুঁত ক্রস দেন হোয়াং ইন-বম, আর বদলি স্ট্রাইকার ও হিয়ন-গ্যু কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে চেকিয়া সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। ৮২ মিনিটে আদাম হ্লোজেকের কাছ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সেউং-গ্যু। যোগ করা সময়েও আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। আক্রমণে সন গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে তার উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিপক্ষ রক্ষণকে চাপে রেখেছিল।
এই জয় দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য আরো একটি কারণে বিশেষ। টানা চার বিশ্বকাপ পর এবারই তারা উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেল। একই সাথে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়েও তারা বড় সুবিধা পেল। গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো জয় পাওয়ায় দুই দলই এখন তিন পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে আছে। গোল ব্যবধানে মেক্সিকো শীর্ষে থাকলেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরের ম্যাচে মাঠে নামবে দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী ১৮ জুন তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো, আর চেকিয়া খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের শুরুটা যেভাবে হলো, তাতে দক্ষিণ কোরিয়া এবার শুধু নকআউট নয়, আরো বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারে।



