নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

Printed Edition

রাজশাহী ব্যুরো

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এ কার্যালয় রাজশাহী থেকে সরানোর উদ্যোগ মেনে নেয়া হবে না।

নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে গত রোববার (১৯ জুলাই) দৈনিক নয়া দিগন্তে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিন সোমবার শত শত মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম রবিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

কর্মসূচি শেষে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি স্মারকলিপি নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) আফাজ উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে রয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সাথে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্মারকলিপিতে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব বাতিল করে তা রাজশাহীতেই বহাল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় অন্যত্র সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত রাজশাহীবাসী মেনে নেবে না। তাদের অভিযোগ, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।