ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য জিম্বাবুয়ে সফরটা যেন এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের নাম। ম্যাচের পর ম্যাচ হার, ব্যর্থতার পর ব্যর্থতা সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসের গ্রাফ এখন তলানিতে। টেস্টে ইনিংস ও ৮৪ রানের লজ্জাজনক হার, তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাজয়, আর টি-২০ সিরিজের শুরুতেও ৩২ রানের হার। সব কিছু মিলিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সফরটি যেন সত্যিই হারের মহোৎসব হয়ে উঠেছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অতীতের ব্যর্থতা বদলে দেয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ থাকে পরের ম্যাচেই। সেই সুযোগই আজ বাংলাদেশের সামনে। বুলাওয়েতে বিকেল সাড়ে ৪টায় সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০তে আবারো জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশ দল। এই ম্যাচ হারলেই সিরিজ হাতছাড়া। তাই এটি আত্মসম্মান বাঁচানোর লড়াইও।
‘টাইগার’ নামটি শুধু একটি পরিচয় নয়, এটি লড়াইয়ের প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই লড়াকু মানসিকতার খুব কমই দেখা মিলছে। তাই দ্বিতীয় টি-২০ বাংলাদেশের জন্য কেবল সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ নয়, হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস, সম্মান এবং সমর্থকদের বিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও লড়াই। বুলাওয়ের মাঠে আজ দেখা যাবে বাংলাদেশ সত্যিই ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নাকি এই সফরের হতাশার গল্পে যোগ হবে আরো একটি নতুন অধ্যায়।
প্রথম টি-২০তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক ছিল পেসার নাহিদ রানার আগুন ঝরা বোলিং। তার গতি, বাউন্স আর ধারালো শর্ট বল জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের বেশ ভুগিয়েছে। নতুন বলে তিনি প্রতিপরে ব্যাটিং লাইনআপে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, নাহিদ সেই আশার অন্যতম প্রতীক। দ্বিতীয় ম্যাচেও তার কাছ থেকে একই রকম আগ্রাসী বোলিং চাইবে দল।
তবে বোলিং ভালো হলেও ব্যাটিং আবারো বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে ইয়াসির আলি লড়াই করে হাফ সেঞ্চুরি করলেও অন্য প্রান্ত থেকে তেমন কোনো কার্যকর সমর্থন পাননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো, পাওয়ার প্লেতে রান তোলার ধীরগতি এবং বড় জুটি গড়তে না পারাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে বড় ইনিংসের অপো দীর্ঘ হচ্ছে। অন্যদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। টি-২০তে শুধু একজনের ব্যাটে ম্যাচ জেতা কঠিন। জয়ের জন্য প্রয়োজন অন্তত তিন-চারজন ব্যাটারের কার্যকর অবদান।
জিম্বাবুয়ে অবশ্য পুরোপুরি উল্টো চিত্র উপহার দিচ্ছে। নিজেদের কন্ডিশনকে দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছে। ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল, বল হাতে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ফিল্ডিংয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত। বিশেষ করে তাদের পেসাররা নতুন বলে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে চাপে ফেলতে সফল হয়েছেন। স্পিনাররাও মাঝের ওভারে রান আটকে রেখে উইকেট তুলে নিয়েছেন। ফলে প্রতিটি বিভাগেই স্বাগতিকরা এখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন মানসিকতা। টানা পরাজয় একটি দলের আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দেয়। মাঠে তখন ছোট ছোট ভুলও বড় হয়ে ধরা দেয়। ক্যাচ মিস, রানআউটের সুযোগ নষ্ট কিংবা সহজ উইকেট বিলিয়ে দেয়া এসবই দেখা যাচ্ছে টাইগারদের খেলায়। আজ যদি শুরুটা ভালো হয়, তাহলে সেই আত্মবিশ্বাসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। দলীয় সমন্বয়েও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যাটিং অর্ডারে রদবদল কিংবা অতিরিক্ত একজন অলরাউন্ডারকে সুযোগ দেয়ার চিন্তা থাকতে পারে টিম ম্যানেজমেন্টের। কারণ একই ভুল বারবার করে ভিন্ন ফল আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের বিপে বাংলাদেশের আধিপত্য আগের মতো নেই। বরং স্বাগতিকরা নিজেদের মাঠে প্রতিটি ম্যাচে কঠিন প্রতিপ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাদের আত্মবিশ্বাস এখন অনেক বেশি। তাই নামের জোরে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশকে।
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সমীকরণ খুব কঠিন নয়। ভালো শুরু, পাওয়ার প্লেতে উইকেট না হারানো, মাঝের ওভারে বড় জুটি এবং শেষ দিকে দ্রুত রান। বল হাতে নাহিদ রানাদের শুরুটা যদি আবারো ভালো হয়, তাহলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু ব্যাটাররা যদি আবারও দায়িত্বহীন শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দেন, তাহলে সিরিজও হাতছাড়া হবে।



