রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও গোপন পোস্টারিংয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। নগরীতে আকস্মিক মিছিল বের করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে পোস্টার লাগানোর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সর্বশেষ গত ৩ জুন সকালে রাজশাহী মহানগরীর সিটিহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৮টার দিকে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল হঠাৎ সড়কে মিছিল বের করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। অল্প সময়ের জন্য সড়কে অবস্থান করার পর তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অংশগ্রহণকারীদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল।
মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠনটির দুই নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘মিছিলের ভিডিও ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। ভিডিও পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঝটিকা মিছিলে জড়িতদের শনাক্তে এবং পরবর্তীতে যেন তারা এ ধরনের তৎপরতা আর চালাতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির তৎপরতার অভিযোগ ওঠে। গত ৭ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল, বাসস্ট্যান্ড, বিজ্ঞান চত্বর ও ফার্স্ট সায়েন্স বিল্ডিংসহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগানো হয়। পোস্টারিংয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব লেখেন, ‘ধন্যবাদ জিয়া হল ছাত্রলীগ! জিয়া হল দিয়ে শেষ, আবার জিয়া হল দিয়েই শুরু হলো।



