২১ দিনে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ

দীর্ঘ সময় পর ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২১ দিন আগে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সরকার গঠনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এসব সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের আমলাদের ওপর প্রভাব ফেলার পাশাপাশি জনগণের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড : বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম একটি প্রতিশ্রুতি ছিলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। নির্বাচনের আগে ও পরে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করেছে বিভিন্ন মহল। ফলে দেশের জনগণের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রাপ্তির বিষয়ে। জনগণের সব উদ্বেগ দূর করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করার ঘোষণা দেন। যার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই দ্রুত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় দেশের লাখ লাখ পরিবার।

কৃষক কার্ড : বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে আরেকটি প্রতিশ্রুতি ছিল ‘কৃষক কার্ড’। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ নাগাদ দেশের আটটি জেলার ৯টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এই কার্ড পাবেন।

ই-হেলথ কার্ড : সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই জনগণের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও আধুনিক করতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

ট্রাফিক গিগন্যাল মেনে চলা : দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাচল এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীতে জনদুর্ভোগ এড়াতে প্রধানমন্ত্রী যাত্রাপথে সড়কের দুই ধারে পুলিশের অবস্থানের যে নিয়ম, তাও বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এত দিন গাড়িবহরে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকত। সেটা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি বেড়েছে। আগে রাজধানীতে যানবাহনের গড় গতি ছিল ৪.৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা, যা প্রায় হেঁটে চলার গতির সমান। ভিভিআইপি প্রটোকলে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত না হওয়ায় বর্তমানে তা বেড়ে ৫.৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় উন্নীত হয়েছে। তারেক রহমানের আগে বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীকে এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত জনগণের মন কেড়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় : বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ দফতরে (সচিবালয়ের ২০১ নম্বর কক্ষ) ৫০% লাইট ও ৫০% এসি ব্যবহার কমিয়ে একটি ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ অপচয় রোধে জনগণকে দারুণভাবে উৎসাহিত করছে বলে মনে করে রাজলৈনিতক বিশ্লেষকরা ও দেশের সাধারণ মানুষ।

সচিবালয় মন্ত্রিসভার বৈঠক : প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে আসতে যানজট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বেশির ভাগ সময় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা অতীতে কোনো প্রধানমন্ত্রীকে করতে দেখা যায়নি।

সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি না ব্যবহারের সিদ্ধান্ত : প্রধানমন্ত্রী তার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে নিজের গাড়ি, চালক ও কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশের চলমান দুর্নীতি ও অনিয়মকে অনুৎসাহিত করবে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।

মাননীয় সম্বোধনে আপত্তি : সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক ‘মাননীয়’ প্রধানমন্ত্রী সম্বোধন করলে ‘মাননীয়’ না বলার অনুরোধ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই বিনয় দেশকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার হাত থেকে রক্ষা করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেয়া : অতীতে জাতীয় সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি ও সরকারি প্লট বরাদ্দ নেয়ার নজির থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিএনপি দলীয় সদস্যদের সরকারী প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তার এই সিদ্ধান্তকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করেছে দেশের জনগণ।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান একেবারে আলাদা। একের পর এক নজির স্থাপন করে যাচ্ছেন। দেশের ইতিহাসে এরকম নজির বিরল। হয়তো তিনি এক সময় বিশ্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ে যুক্ত হবেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।