ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে তীর রক্ষায় ব্যয় বিস্ময়কর

হামিদুল ইসলাম সরকার
Printed Edition
  • ১ কিলো মিটার স্থায়ী তীর রক্ষায় ১০৩ কোটি টাকা
  • ভারতে প্রতি কিলোমিটার ব্যয় ১২ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা

রাজশাহীতে পদ্মা নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। কিন্তু নদীর তীর রক্ষার চেয়ে ব্যয়ের হিসাবই যেন বড় হয়ে উঠছে। নতুন কাজের চেয়ে পুরাতন কাজের খরচে বিস্ময়কর হিসাব। রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণে প্রস্তাবিত প্রকল্পে ২.৭৫ কিলোমিটার নতুন স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১০৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বিস্ময়কর হলো, নতুন তীর প্রতিরক্ষা কাজের সাথে পুরনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বাসনেও প্রায় একই ব্যয় ধরা হয়েছে। সেটাও প্রতি কিলোমিটারে ১০২ কোটি টাকার বেশি। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) চোখেও বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। কমিটি প্রশ্ন তুলেছে নতুন নির্মাণ এবং পুনর্বাসন কাজে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় প্রায় একই হয় কীভাবে? নকশা পুনর্বিবেচনা করে ব্যয় কমানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প নেয়ার কারণ

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেয়া নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনার দলিল থেকে জানা গেছে, পদ্মা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের একটি বৃহৎ ও খরস্রোতা নদী। নদীটির মোট ক্যাচমেন্ট এরিয়া রয়েছে ৯ লাখ বর্গকিলোমিটার। যার অধিকাংশ ক্যাচমেন্ট এলাকা উজানের দেশ ভারতে পড়েছে। নদীটি প্রতি বছর বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে নিয়ে আসে। পদ্মা অববাহিকা এলাকায় বন্যা ও নদী তীর ভাঙন একটি বার্ষিক ঘটনা। রাজশাহী জেলার উপজেলাগুলো পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন এবং হাইড্রোলজিক্যাল ঘটনার কারণে এই অঞ্চলগুলো প্রতিনিয়ত ব্যাপক নদী তীর ভাঙন এবং বন্যা বা প্লাবনের সম্মুখীন হচ্ছে। রাজশাহী শহরের পূর্ব প্রান্ত হতে ভাটিতে হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৮ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন চারঘাট ও বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর বাম তীরে সাহাপুর ও চারঘাট সীমান্ত ফাঁড়ি, টাঙ্গন, রাওথা, আলাইপুর, চারঘাট ও বাঘা থানা রক্ষায় মোট ১২.১০৯ কি. মি. দৈর্ঘ্য নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের প্রস্তাবিত খরচ ও কাজ

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, ‘রাজশাহী জেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো রক্ষার্থে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম অংশ)’ নামে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল প্রস্তাব করা হয়েছিল জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় মোট ১৫.৫৭৯ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা, শক্তিশালীকরণ ও সতর্কতামূলক প্রতিরক্ষা কাজ করার কথা। যেহেতু জুলাই চলে যাচ্ছে, তাই পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রকল্পের মেয়াদ অক্টোবর-২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত করার জন্য সুপারিশ করেছে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পের খরচের তুলনা

২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের খরচের হিসাব বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, সিলেটের কালকিনি-কুশিয়ারা নদীর তীর সংরক্ষণ চলমান প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে তীর সংরক্ষণ খরচ হচ্ছে ১১ কোটি ৮৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা। একইভাবে হবিগঞ্জের বিবিয়ানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কুশিয়ারা নদীর তীর সংরক্ষণে কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এখানে মোট ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। নোয়াখালীর মুসাপুরে ৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ৮৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এখানে কিলোমিটারে ব্যয় হবে ২২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার পদ্মার শাখা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে নওয়াপাড়া এলাকা এবং পদ্মা নদীর বাম তীরের ভাঙন থেকে চরআত্রা এলাকা রক্ষা করার জন্য ৫৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প হয়েছে। যেখানে নদীর ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৬৮ কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ফলে এখানে প্রতি কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ করতেই খরচ হবে ৫৩ কোটি ৮১ লাখ ১৮ হাজার টাকা। একই মন্ত্রণালয়ের অপর প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে তীর সংরক্ষণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আর প্রকল্পটি হলো, কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি উপজেলাধিন ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডানতীর সংরক্ষণ এবং ড্রেজিং। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬৯৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের হালদা নদী তীর রক্ষা প্রকল্পে ১২.১২ কিলোমিটার তীর প্রতিরক্ষার জন্য ২১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা ধরা হয়। অর্থাৎ কিলোমিটারে ব্যয় ১৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৬ সালের একটি নোটিশ অনুযায়ী, ফেনী সদর ও সোনাগাজীতে সেলোনিয়া নদীর ২.১১ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজের চুক্তিমূল্য ২২ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। হিসাব করলে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় প্রায় ১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অন্য দিকে ফেনী সদর ও ফুলগাজীতে একই নদীর আরো ২.০৫৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজের চুক্তিমূল্য ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার টাকা। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় প্রায় ৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর ২০২৫ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রায় ৪৩ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষায় ২৪৩ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছিল। সেই হিসাবে কিলোমিটারপ্রতি বরাদ্দ প্রায় ৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

ভারতের সাথে ব্যয় তুলনা

বিভিন্ন ওয়েবসাইট প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, এখানে ভারতের এক রূপী সমান বাংলাদেশের ১.২৮ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে। ভারতে নদীর আকার এবং প্রয়োজনীয় শক্তিশালীকরণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে নদী তীর সুরক্ষার জন্য ব্যয়ের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য তারতম্য দেখা যায়। ছোট নদী বা সাধারণ তীর প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে খরচ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি থেকে ৩ কোটি রুপি হতে পারে, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১.৪০ কোটি থেকে ৪.২০ কোটি টাকা। আসামের ব্রহ্মপুত্র নদী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়িত ২০২৩ সালের একটি প্রধান উদ্যোগের আওতায় নদীটির মূল ধারার ৬৫০ কিলোমিটার অংশ ব্যবস্থাপনার জন্য ২০ কোটি ডলারের একটি ঋণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্যাপক বন্যা ও ভাঙন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য এর গড় ব্যয় প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার ডলার বা প্রায় ২.৫৬ কোটি রূপী হয়েছে। আর ভারতে বিভিন্ন মিডিয়ার তথ্য বলছে, ভারতে নদী ও কাজভেদে ব্যয় হয় ১২ কোটি থেকে ৫০ কোটি বাংলাদেশী টাকায়।

ভারতে সাধারণ নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১.৪ থেকে ১২ কোটি বাংলাদেশী টাকা খরচের উদাহরণ রয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ গঙ্গা-পদ্মা অংশে এই ব্যয় প্রায় ২৫.৮ কোটি টাকা প্রতি কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে। আর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শিলিগুড়িতে মহানন্দা নদীর দুই তীরে কয়েক ধাপে তীর সংরক্ষণ কাজ হয়েছে। প্রথম ধাপে ১.২৮ কিলোমিটারে খরচ হয়েছে ২.৭২৭৪ কোটি, দ্বিতীয় ধাপে ১.৪ কিলোমিটারে ৩.৪৮২৬ কোটি এবং তৃতীয় ধাপে ৩ কিলোমিটারে প্রায় ৭.০৯ কোটি ভারতীয় রূপী। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় প্রায় ২.১৩ থেকে ২.৪৯ কোটি রূপী। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২.৮ থেকে ৩.২ কোটি টাকা। তবে গঙ্গা-পদ্মা: খরচ অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গের মালদা-মুর্শিদাবাদ এলাকায় গঙ্গা-পদ্মার তীর রক্ষায় ২০২১-২২ সালে ১.৭৯৫ কিলোমিটার কাজে ৬.৬৫ কোটি রূপী ব্যয় হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে খরচ ৩.৭১ কোটি রূপী। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪.৮২ কোটি টাকা। আর ২০২১ সালের বর্ষার পর গঙ্গা-পদ্মার ৯.৯ কিলোমিটার অংশে অ্যান্টি-ইরোশন কাজে ৮০.৬৭ কোটি রূপী ধরা হয়েছিল। যা প্রতি কিলোমিটার সোয়া ৮ কোটি রূপী। একই গঙ্গা-পদ্মা নদীতেও প্রকল্পভেদে প্রতি কিলোমিটারের ব্যয় প্রায় ৪.৮ কোটি থেকে ১০.৬ কোটি টাকা পর্যন্ত হয়েছে।

পিইসির প্রশ্ন : নতুন আর পুরনো কাজে ব্যয় একই কেন?

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, রাজশাহীর প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা এখানেই। নতুন স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা এবং পুনর্বাসন দুই ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় প্রায় একই। পিইসি সভায় এ বিষয়টি সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়ে। বলা হয়, নতুন কাজ ও পুনর্বাসন কাজের ব্যয় প্রায় একই হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। পুনর্বাসন কাজের মধ্যে গ্রোয়েন এবং তীর প্রতিরক্ষার ব্যয়ও আলাদাভাবে দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিজ্ঞরা বলছেন, এখানে স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো- একটি সম্পূর্ণ নতুন তীর প্রতিরক্ষা কাঠামো নির্মাণে যে ধরনের কাজ, উপকরণ ও ভিত্তি তৈরির প্রয়োজন হয়, পুরনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্বাসনেও কি একই মাত্রার ব্যয় হওয়া যৌক্তিক? তারা বলেন, প্রকল্পের নথি নিজেই যখন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, তখন ৮৯৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার প্রাক্কলনকে আরো কঠোর যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।

৯৪০ মিটার কাজেও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ

প্রস্তাবনায় ব্যয়ের আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কেশবপুর এলাকায় ৯৪০ মিটার পুনর্বাসন কাজকে ঘিরে। পিইসি সভায় বলা হয়েছে, ওই অংশে প্রতি ২৫০ মিটার পরপর আরসিসি ঢালাইয়ের সিঁড়ি নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এর ফলে ওই অংশের প্রাক্কলিত ব্যয় অত্যধিক হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে প্রতিটি ক্রয় প্যাকেজে ঠিকাদারের সাইট অফিসের সংস্থানও রাখা হয়েছিল। পুরো প্রকল্পে মোট ৪০টি ক্রয় প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছিল। পিইসি অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের প্যাকেজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

গাড়ি, স্পিডবোট, যন্ত্রপাতিতেও কাটছাঁট

প্রকল্পে পাঁচটি মোটরসাইকেল, একটি ডাবল কেবিন পিকআপ ও একটি স্পিডবোট কেনার প্রস্তাব করা হয়। পিকআপের জন্য ৬০ লাখ টাকা এবং স্পিডবোটের জন্য ৪৫ লাখ টাকা ধরা হয়। পরিকল্পনা কমিশন তাদের পর্যালোচনায় বলেছে, বর্তমান সরকারি নীতিমালায় গাড়ি কেনার সুযোগ না থাকায় পিকআপ ও স্পিডবোটের সংস্থান বাদ দিয়ে প্রয়োজনে ভাড়ায় যানবাহন ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। মোটরযান মেরামতের জন্য রাখা ২২ লাখ টাকাও কমানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল লেভেল মেশিনে ২৪ লাখ টাকা, বাথিমেট্রি সার্ভে সিস্টেমে ২৫ লাখ টাকা, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে আরো ব্যয়ের প্রস্তাব ছিল। এসব ব্যয়ও বাদ বা কমানোর বিষয়ে সভায় মত দেয়া হয়েছে বলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

প্রকল্পটি সংশোধন করার জন্য সুপারিশ

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে প্রকল্পটি নিয়ে কথা হলে তারা বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। তবে শর্তসাপেক্ষে। নকশা পুনর্বিবেচনা, কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় কমানো, ক্রয় প্যাকেজ পুনর্গঠন, অপ্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জাম বাদ দেয়া এবং সামগ্রিক ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি নিয়ে আবারো পিইসি সভা হবে। ফলে ৮৯৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এখনো চূড়ান্ত ব্যয় নয়। বরং পিইসির পর্যবেক্ষণ বলছে, এই ব্যয় আরো কমানো উচিত।