এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের ফেনাফুনি গ্রামে জলাবদ্ধতা ও জোঁকের আক্রমণে পাকা বোরো ধান কাটতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকেরা। গোভনিয়া-আবুতোরাব খাল দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমিতে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এখন সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই গোভনিয়া-আবুতোরাব খালের বিভিন্ন অংশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এতে ফেনাফুনি গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে মাঠের অধিকাংশ জমিতে হাঁটুসমান পানি জমেছে। অনেক স্থানে পাকা ধান পানিতে নুয়ে পড়েছে। আর কয়েক দিন এ অবস্থা চললে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এবার শতাধিক কৃষক প্রায় ২০০ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। কেউ ঋণ নিয়ে, কেউ বর্গাচাষ করে ফসলের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সেই স্বপ্ন ঘরে তোলা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়ছেন সবাই।
ধান কাটার আরেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জোঁক। জমিতে নামলেই এক থেকে দেড় ইঞ্চি আকারের জোঁক শরীরে লেগে যায়। ফলে কৃষকেরা দীর্ঘ সময় পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারছেন না। অনেক শ্রমিক আছেন জোঁকে ভীষণ ভয় পান, তারা পানিতেই নামেন না জোঁকের ভয়ে।
কৃষক হাবিব উল্লাহ ও এনামুল হক বলেন, এক একর জমিতে ধান করেছি। ধান পাকলেও পানি আর জোঁকের কারণে কাটতে পারছি না। সময়মতো কাটতে না পারলে ফলন কমে যাবে, লোকসান গুনতে হবে। কৃষক সাহাব উদ্দিন বলেন, আগে এত জোঁক ছিল না। এখন জমিতে নামলেই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জোঁক লেগে যায়। বেশিক্ষণ কাজ করা যায় না। পানিতে মাছ ও ব্যাঙ থাকলে জোঁকের এত উৎপাত থাকত না।



