সুলতানি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন অষ্টগ্রামের কুতুব শাহ মসজিদ

Printed Edition
সুলতানি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন অষ্টগ্রামের কুতুব শাহ মসজিদ
সুলতানি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন অষ্টগ্রামের কুতুব শাহ মসজিদ

অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কালের সাক্ষী হয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক কুতুব শাহ মসজিদ। সুলতানি আমলের স্থাপত্যরীতির অনন্য এই নিদর্শন শুধু অষ্টগ্রামের নয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন স্থাপত্য ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। স্থাপত্যপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণের অন্যতম স্থান।

মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। নির্মাণের সময় কোনো শিলালিপি বা স্মৃতিফলক পাওয়া না যাওয়ায় এর ইতিহাস অনেকটাই অনুমাননির্ভর। তবে স্থাপত্যশৈলী, অলঙ্করণ ও নির্মাণরীতি বিশ্লেষণ করে প্রতœতাত্ত্বিকদের ধারণা, এটি ষোড়শ শতকের সুলতানি আমলে নির্মিত। মসজিদের পাশে থাকা কুতুব শাহের মাজার থেকেই এর নামকরণ হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯০৯ সালে স্থাপনাটি সংরক্ষিত প্রতœসম্পদ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। বর্তমানে এর তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর।

চারকোনা বিশিষ্ট মসজিদটির চার কোণে রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির চারটি বুরুজ, যার ওপর সমান্তরাল চারটি মিনার নির্মিত। ছাদে রয়েছে পাঁচটি গম্বুজ। পশ্চিমের কেবলা দেয়াল ছাড়া অন্য তিন দেয়ালে পাঁচটি প্রবেশপথ রয়েছে; পূর্ব দেয়ালের তিনটি দরজা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মসজিদের বাইরের দেয়ালে পোড়ামাটির অলঙ্করণ এবং বক্রাকার কার্নিশে ফুটে উঠেছে সুলতানি স্থাপত্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। ইট-পোড়ামাটির এই সূক্ষ্ম কারুকাজ সময়ের ক্ষয়কে অতিক্রম করে স্থাপনাটির নান্দনিকতা ধরে রেখেছে।

স্থানীয় প্রবীণ আবু ছালেক মিয়ার মতে, দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে থাকা কুতুব শাহ মসজিদ বাংলাদেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের মূল্যবান নিদর্শন। যথাযথ সংরক্ষণ ও পর্যটনসুবিধা বাড়ানো গেলে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি অষ্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরো পরিচিতি পেতে পারে।