ফুটবলহীন দেশে নতুন স্বপ্ন

Printed Edition
মাত্র ২১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নাউরু বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার এবং আয়তনের দিক থেকে এটি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শহরের চেয়েও ছোট : ইন্টারনেট
মাত্র ২১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নাউরু বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার এবং আয়তনের দিক থেকে এটি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড শহরের চেয়েও ছোট : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের ছয় সপ্তাহজুড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুতেও ছিল ফুটবল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ। তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে ফুটবলের সেই উচ্ছ্বাস প্রায় পুরোপুরি থেমে গেছে। কারণ বিশ্বের অন্যতম ছোট এই রাষ্ট্রে ফুটবল এখনো প্রতিষ্ঠিত কোনো খেলা নয়।

প্রায় ১২ হাজার জনসংখ্যার নাউরু এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে অংশ নেয়নি। দেশটিতে রয়েছে মাত্র একটি ফুটবল মাঠ, সেটিও ঘাসের নয়; শক্ত বালু ও ফসফেট মিশ্রিত মাটির তৈরি। যদিও অনেক শিশু লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জার্সি পরে এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বড় ম্যাচগুলো আগ্রহ নিয়ে দেখে, বাস্তবে ফুটবল খেলাকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। দেশটিতে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলানোর চেষ্টা চলছে। ব্রিটিশ সাবেক ফুটবলার চার্লি পমরয়ের নেতৃত্বে একদল স্বেচ্ছাসেবক নাউরুতে ফুটবলের ভিত্তি গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছেন। তাদের লক্ষ্য শুধু একটি জাতীয় দল গঠন নয়; বরং শিশু-কিশোরদের মধ্যে খেলাধুলার সংস্কৃতি তৈরি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন উৎসাহিত করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

পমরয় জানান, তাদের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে চার থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় দুই হাজার শিশুর হাতে ফুটবল তুলে দেয়া হবে। এ জন্য দ্বীপটির ১১টি বিদ্যালয় ও বিভিন্ন গির্জার সহযোগিতায় ধাপে ধাপে বল বিতরণ করা হবে। ডিসেম্বর থেকে তিনি নাউরুতে কোচিং কর্মসূচিও শুরু করবেন, যেখানে খেলোয়াড়ের পাশাপাশি স্থানীয় কোচও তৈরি করা হবে।

নাউরুর ইতিহাস ফুটবলের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় ফসফেট খনিজের কারণে মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ ছিল নাউরু। কিন্তু অতিরিক্ত খননের ফলে দ্বীপটির বিশাল এলাকা অনাবাসযোগ্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশের বেশি খাদ্য আমদানি করতে হয়। প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে দেশটির প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ স্থূলতায় আক্রান্ত এবং প্রায় ৪০ শতাংশের টাইপ-২ ডায়াবেটিস রয়েছে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নাউরুর অস্তিত্বের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বাস্তবতার মধ্যেও ২০২৮ সালের মাইক্রোনেশিয়ান গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। এই প্রতিযোগিতায় ফুটবলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা দেশটির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

পমরয়ের ভাষায়, তাদের উদ্দেশ্য কারো ওপর ফুটবল চাপিয়ে দেয়া নয়; বরং খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নাউরুর প্রথম সিনিয়র জাতীয় ফুটবল দল গঠিত হবে, যেখানে খেলবে আজকের এই কিশোররাই। আর ভবিষ্যতে যদি কোনো নাউরুবাসী বলতে পারেন যে ফুটবল তার জীবন বদলে দিয়েছে, সেটিই হবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য।