রাজধানীর যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে ডিএমপি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘসময় অপেক্ষমাণ বাসগুলো সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ বাসের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: আনিছুর রহমান জানান, কাগজের পাতায় ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকলেও বাস্তবে যদি কোনো গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী বা জীর্ণ দশায় পাওয়া যায়, তবে সেটিকে সরাসরি রাস্তায় চলতে দেয়া হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ বা ইকোনমিক লাইফ শেষ হওয়া গাড়ি রাস্তায় পাওয়া গেলেই তা জব্দ করে সরাসরি বিআরটিএর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। পরে বিআরটিএর স্ক্র্যাপ নীতিমালা অনুযায়ী এসব গাড়ির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চলমান এই অভিযানে ইতোমধ্যে আনুমানিক ৪০টি মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি বিআরটিএর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে।

তিনি আরো জানান, ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ি আটকে রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ট্রাফিক পুলিশের নেই। ফলে জীর্ণ অবস্থায় ধরা পড়া গাড়িগুলোর ছবি তুলে রেখে সেগুলোকে সরাসরি বাস মালিকের পছন্দের নির্দিষ্ট গ্যারেজে মেরামতের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। গ্যারেজে মেরামতের পর গাড়িগুলো চলাচলের উপযোগী হলে, মালিককে ডিএমপির কাছ থেকে পুনরায় ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি নিতে হবে। এই ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই কেবল গাড়িটি আবার রাস্তায় নামতে পারবে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকার যানজট নিরসন এবং যাত্রীদের নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিতে দীর্ঘসময় অপেক্ষমাণ থাকা এবং ‘গ্যাপের গাড়ি’গুলো ধাপে ধাপে পূর্বাচলের অস্থায়ী বাস ডিপোতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পূর্বাচলের এই অস্থায়ী ডিপোতে চালক ও বাসগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্ধারিত সংখ্যার গাড়ি সেখানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট গাড়িগুলোও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেয়া হবে।