বাজিতপুর ও নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পরও ধনু নদী ও হাওরাঞ্চলে অব্যাহত রয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র জরিমানা করেই ড্রেজার মালিকদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্টদের আঁতাতের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের তুলনায় রাতে বেশি মাত্রায় বালু উত্তোলন করা হয়। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার ভূমিক্ষয় বাড়ছে এবং বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন অনেক মানুষ। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মূল হোতারা অধিকাংশ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই মাসে তিনটি ড্রেজারের বিরুদ্ধে মোট আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৪ এপ্রিল সিংপুর ইউনিয়নের মুসাফপুর এলাকায় এমবি ছাবিল লোড ড্রেজারকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক কর্মচারীকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
তবে ড্রেজার মালিক খাইরুল অভিযোগ করেন, তাকে অন্যদের তুলনায় বেশি শাস্তি দেয়া হয়েছে। তার দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ড্রেজার আটক হলেও এক থেকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেই ছেড়ে দেয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৪ মে ধনু নদীর মুসাফপুর এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের সময় ‘বিল্লাল’ নামের একটি ড্রেজার জব্দ করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয়ভাবে ওই ড্রেজারের সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ গত ৩ জুন রাতে নিকলীর একাধিক স্থানে আবারো বালু উত্তোলনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মুসাফপুর এলাকা থেকে ‘মা জননী’ নামের একটি ড্রেজার জব্দ করে। তবে ঘোড়াউত্রা হাওর এলাকা থেকে আরেকটি ড্রেজার সরিয়ে নেয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ড্রেজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় বালু উত্তোলন চলে। তার ভাষ্য, দৈনিক বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন হওয়ায় জরিমানাকে ব্যবসার ব্যয়ের অংশ হিসেবেই ধরা হয়।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, ঈদের আগে থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন সম্ভব হতো না। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার ভূমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, সর্বশেষ অভিযানে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



