কেরুতে ৩ মাস পরপর পুনর্নিয়োগে প্রশ্ন

পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ

Printed Edition

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য শূন্য পদে দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের জারি করা একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে ১৬তম গ্রেডভুক্ত বিক্রয় সহকারী, স্টোর কিপার ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। তালিকায় রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের মো: জহিরুল ইসলাম ও মো: হাসান (বিক্রয় সহকারী), মো: রায়সুল ইসলাম রাহাত (স্টোর কিপার)। চট্টগ্রাম সেলস অফিসে রয়েছেন মো: তোফায়েল আহমেদ (বিক্রয় সহকারী) এবং কক্সবাজার সেলস অফিসে শেখ কাওসার ইসলাম (বিক্রয় সহকারী) ও ফিরোজ আহমেদ (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর)।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব পদ মূলত স্থায়ী কাঠামোর আওতাভুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু তা অনুসরণ না করে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা এক অফিস আদেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে পাঁচজন কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য ‘কানামনা’ (কাজ নেই, মজুরি নেই) ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছেন তোফায়েল আহমেদ (বিক্রয় সহকারী), শেখ কাওসার ইসলাম (বিক্রয় সহকারী), ফিরোজ আহমেদ (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর), মো: সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো: নাজমুল হাসান (নিরাপত্তা প্রহরী)।

অভিযোগকারীরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় ও হিসাব সংক্রান্ত পদে স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেয়া প্রশাসনিক ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব সেলস অফিসে লাখ লাখ টাকার পণ্য ও নগদ অর্থের হিসাব পরিচালিত হলেও কর্মীদের স্থায়িত্ব ও চাকরির নিশ্চয়তা নেই।

তাদের প্রশ্ন, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির সুবিধাবিহীন অস্থায়ী কর্মীদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালনা হলে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত থাকে?

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কিছু নিয়োগ দেয়া হয়েছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় একই ব্যক্তিদের ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

কেরুর একাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতির মাধ্যমে স্থায়ী জনবল নিয়োগ দেয়া উচিত। দীর্ঘদিন পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা স্থায়ী কর্মচারীরা ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান। তিনি বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক লোক নেই। কয়েকটি ক্ষেত্রে থাকতে পারে। আমার কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে জনবল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।