সিএনএন
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র তুর্কমিনিস্তান। তবে এবার ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে দেশটি। পর্যটন খাতকে উন্মুক্ত করতে সরকার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে এ ঘোষণা এলেও এখনো তা কার্যকরের নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। সাধারণত তুর্কমেনিস্তানে ভ্রমণের জন্য সরকার অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে পরিকল্পনা করতে হয় এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন’ নিতে হয়। এ জটিল প্রক্রিয়া শেষ করতেই সময় লেগে যেত প্রায় এক মাস। নতুন নিয়মে এই চিঠির বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হতে পারে এবং চালু হতে পারে অনলাইন ভিসা আবেদন। এতে করে দেশটিতে প্রবেশ সহজ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে অনুমোদিত স্থানীয় গাইড ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা সহজ হবে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তুর্কমিনিস্তানের সবচেয়ে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র হলো ‘দারভাজা গ্যাস ক্রেটার’, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘নরকের দরজা’ নামে। সোভিয়েত আমলে দুর্ঘটনাবশত সৃষ্টি হওয়া এই বিশাল গর্তে এখনো আগুন জ্বলছে। রাজধানী আশগাবাত থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই স্থানটি দেখতে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ‘ইয়ুর্ট ক্যাম্পে’ রাত কাটিয়ে আগুনের উত্তাপ উপভোগ করেন।
এ ছাড়া দেশটির উত্তরাঞ্চলের ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত কুনিয়া-উরগেঞ্চ, মেরভের ধ্বংসাবশেষ এবং সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক শহরগুলো ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আশগাবাত শহরে রয়েছে সাদা মার্বেলের বিশাল সব ভবন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইনডোর ফেরিস হুইল এবং লাইটার আকৃতির তেল ও গ্যাস মন্ত্রণালয়ের ভবন, যা স্থাপত্যে বৈচিত্র্য এনে দিয়েছে। নরওয়েজিয়ান লেখক ও নৃতত্ত্ববিদ এরিকা ফ্যাটল্যান্ড আশগাবাত সম্পর্কে বলেন, ‘আশগাবাত সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে অদ্ভুত রাজধানী। পুরো শহর যেন এক ভুতুড়ে সাদা রাজপ্রাসাদ।’
১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট সাপারমুরাত নিয়াজভ সোভিয়েত যুগের প্রভাব বজায় রেখেই দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেন। বিশাল গ্যাসসম্পদ থাকার কারণে বহির্বিশ্বের সহযোগিতা ছাড়াই দেশটি টিকে থাকতে পেরেছে। তবে এক দশক ধরে চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটে তুর্কমিনিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে। ইরান ও তুরস্কের সাথে গ্যাস রফতানিচুক্তি, আর এবার পর্যটন খাত খুলে দেয়াও সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেশী উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তান পর্যটন খাতে অনেক এগিয়ে গেছে। সেই অনুকরণেই তুর্কমিনিস্তান এবার নিজেকে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশ্বের গোপনতম রাষ্ট্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত দেশটি পর্যটকদের কাছে কতটা খোলা হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



