গাজার বিষাক্ত বর্জ্যে ইসরাইলেও বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে জমে থাকা বিপুল বর্জ্য, অপরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশন ও দূষিত ধ্বংসস্তূপ এখন সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে গাজা ও ইসরাইলের অভিন্ন সামুদ্রিক পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের কারণে এ ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজার বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ায় প্রতিদিন এক লাখ ঘনমিটারের বেশি অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য ভূমিতে বা সরাসরি ভূমধ্যসাগরে পড়ছে। সাগরের স্রোতের কারণে এর একটি অংশ ইসরাইলের উপকূলীয় নৌসীমার দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যের পাশাপাশি উপকূলীয় জনস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

দক্ষিণ ইসরাইলের আশকেলন লবণমুক্তকরণ প্রকল্প গাজার বর্জ্যপানিজনিত ব্যাকটেরিয়া দূষণের কারণে একাধিকবার বন্ধ রাখতে হয়েছে বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য থেকে বিষাক্ত শৈবাল সৃষ্টি হয়ে পানি পরিশোধন ব্যবস্থায়ও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এদিকে গাজায় যুদ্ধের ফলে প্রায় ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমেছে। বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এর কিছু অংশ ইসরাইল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এসব ধ্বংসস্তূপে সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, অ্যাসবেস্টস, রাসায়নিক পদার্থ ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এগুলো মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বোর্ড অব পিসের প্রতিনিধিরা ইসরাইল-গাজা পয়ঃনিষ্কাশন ও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছেন। তবে এর কার্যক্রমের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি হামলা-অবরোধ, গাজায় নিহত ৫

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার উত্তর পশ্চিম তীরের আল-ফারা শরণার্থী শিবিরে অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে ছয় ফিলিস্তিনি আহত হন। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গ্যাসে আক্রান্ত সবাইকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নাবলুসের কাছে জালুদে এক ফিলিস্তিনি নারী ও এনবিসি নিউজের তিন সাংবাদিকও মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন।

ওই নারী জানিয়েছিলেন, বসতি স্থাপনকারীরা তার পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে। হামলায় সাংবাদিকদের লাঠি ও পাথর দিয়ে মারধর করা হয়। এদিকে রামাল্লার আল-মুগাইয়ির গ্রামের একমাত্র প্রবেশপথ টানা ২০ ঘণ্টা বন্ধ রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় ২০ দিন ধরে গ্রামটিতে অবরোধ ও হামলা জোরদার হয়েছে। কখনো দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। শুক্রবারের হামলায় তিন ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার পর আহতদের নিতে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সও আটকে দেয়া হয়। হেবরনের পুরনো শহরেও ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ও দোকানিদের চলাচলে বাধা দিয়েছে এবং সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্য দিকে, গাজায় শনিবার ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খান ইউনুসে গোলাবর্ষণে আহত আরেকজন পরে মারা যান। একই দিনে বিভিন্ন হামলায় চারজন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শিশু হত্যায় উদ্বেগ বৃদ্ধি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে ফিলিস্তিনি শিশু-কিশোর নিহতের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে পশ্চিম তীরে ২৩৫ জনের বেশি শিশু-কিশোর নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফিলিস্তিনি ‘কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন’-এর হিসাবে এ সংখ্যা ২৫০।