আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো
জুলাই আন্দোলনে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের হামলার শিকার হন দৈনিক যুগান্তর বরিশাল ব্যুরো ফটোসাংবাদিক শামীম আহমেদ। ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই বরিশাল নগরীর কাকলীর মোড়ে ছাত্র-জনতার মিছিলে লাঠিচার্জের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের হামলার শিকার হন তিনি। এরপর থেকে এই সাংবাদিক শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। এখনো তার চোখে-মুখে ভয়াল আতঙ্কের ছাপ। কাটাচ্ছেন দুর্বিষহ দিন। এ অবস্থায় তার উন্নত চিকিৎসার দাবি পরিবারের।
সেদিন শামীমের শরীর ও মাথায় লাঠি দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করে পুলিশ। সেই ঘটনার পর আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। এরপরে কয়েকবার হৃদরোগে আক্রান্ত ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন এই সাংবাদিক।
শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমি সঠিক চিকিৎসা করাতে পারিনি। আর ওই হামলার টেনশন আমার মাথায় এমন প্রভাব বিস্তার করে, যে কারণে এরপর আমি নিউরোলজিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ি।’ তাকে নিয়মিত থেরাপি দেয়া হচ্ছে, এমন অসুস্থতার পর চিকিৎসা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় তার পরিবার। আহত সাংবাদিকের মেয়ে সাহারা আহমেদ বলেন, ‘আব্বু ছাড়া আমাদের আর রোজগার করার কেউ নেই। সরকারের সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া এখন আমাদের চলার উপায় নেই।’
সিনিয়র এই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান সাংবাদিক নেতারা। তারা জুলাই আন্দোলনে আহত সাংবাদিকের আর্থিক সহায়তার দাবি জানান। বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, ‘শামীম আহমেদ এখন খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি যাতে বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা পান সেই দাবি করছি।’
বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: হাফিজুর রহমান হীরা বলেন, শামীম এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সুপারিশে তাকে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আরো সহযোগিতা প্রয়োজন। তার নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: মামুন খন্দকার বলেন, সরকারিভাবে যেসব সহযোগিতা আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাওয়ার কথা- সেগুলো তারা পাচ্ছেন। এরবাইরেও দীর্ঘমেয়াদি আহত জুলাইযোদ্ধাদের বিষয়ে সরকার যে পদক্ষেপ নেবে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। স্থানীয়ভাবে সাংবাদিক সংগঠনগুলো আহত সাংবাদিকদের কল্যাণে কোনো পদক্ষেপ নিলে আমরা সাধ্যমতো তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।



