আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলো শূন্য থাকায় কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এক লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি জনসংখ্যার এই উপজেলায় প্রধান পদগুলোতে কর্মকর্তা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি গত ২৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেছেন। এর আগে এসিল্যান্ড মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ এবং থানার ওসি মাহবুবুর রহমানও অন্যত্র বদলি হন। বর্তমানে এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। এ ছাড়া মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা এবং আনসার-ভিডিপি কার্যালয়েও পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা নেই। স্থানীয় ৫০ শয্যার হাসপাতাল, কৃষি, মৎস্য ও ফায়ার সার্ভিসেও জনবল সঙ্কট প্রকট। সাতটি ইউনিয়নের জন্য ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রয়েছেন মাত্র একজন, যার ফলে ভূমি সেবায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকার কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না, অন্য দিকে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগও উঠছে। অতি সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিএনপি ও স্থানীয়দের একাংশ। চলতি বর্ষা মৌসুমে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটলেও স্থায়ী ট্যুরিস্ট পুলিশ বা নৌপুলিশ ক্যাম্প না থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলর জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় এবং সার্বিক সেবা স্বাভাবিক রাখতে এসব শূন্য পদ অবিলম্বে পূরণ করা জরুরি। জনস্বার্থে দ্রুত দক্ষ ও স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়নে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।



