কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামের প্রায় ২৫০ পরিবার চার দশকের বেশি সময় ধরে জোয়ার-ভাটার পানির সাথে লড়াই করে বসবাস করছে। টিয়াখালী নদীর তীরে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা ও অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামটি। এতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পরস্পরকে দায় দেয়ার কারণে দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের দু’টি স্থানে প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। সামান্য জোয়ারেই পানি ঢুকে পড়ছে গ্রামে। প্রায় পাঁচ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় স্থানীয়রা একটি অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করলেও সেটি প্রয়োজনীয় উচ্চতার না হওয়ায় জোয়ারের পানি উপচে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, লবণাক্ত পানি ঢুকে প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি পড়ে আছে। জোয়ারের সময় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, রান্নাবান্না ও কৃষিকাজেও সমস্যায় পড়তে হয় বাসিন্দাদের।
পশ্চিম লোন্দা গ্রামের বাসিন্দা রেহেনা বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা জোয়ার-ভাটায় ডুবে-ভেসে বসবাস করছেন। ত্রাণ নয়, নিরাপদে বসবাস ও কৃষিজমি রক্ষায় তারা একটি টেকসই বেড়িবাঁধ চান।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানি ঢুকে প্রায় ২৫০ পরিবারের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। এতে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং রান্নাঘরেও পানি ওঠে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময় তাদের বাড়িঘর টানা চার দিন পানিতে তলিয়ে ছিল বলে জানান তিনি। কৃষক সোহেল মোল্লা বলেন, তাদের জমি তিন ফসলি হলেও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকায় একটি ফসলও ঠিকমতো আবাদ করা যায় না।
বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সম্প্রতি টিয়াখালী নদীর তীরে পানিতে নেমে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বর্ষা ও জলোচ্ছ্বাসের আগে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক।



