একেই বলে অস্ট্রেলিয়া

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

দল যত সমস্যায় থাকুক না কেন। ম্যাচ ঠিকই বেরকরে নেবে অস্ট্রেলিয়া। অতীতে বহুবার এমন ঘটনা ঘটেছে। গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই পুরনো াঝপে অসিরা। ঠিকই আইরিশদের উড়িয়ে সহজেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে তারা। ফলে জয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ ট্রফি পুনরুদ্ধারের মিশন শুরু করেছে তারা। অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেটে ১৮৬ রানের জবাবে আয়ারল্যান্ড ১৬.৫ ওভারে ১১৫ রানে অলআউট । এতে ৬৭ রানের বিশাল জয় ২০২১ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ীদের। আয়ারল্যান্ড প্রথম ম্যাচে নিজেদের ভুলে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পূর্ন পেশাদারি অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে পাত্তাই পেল না। টানা দুই হারে আয়ারল্যান্ডের সুপার এইটে যাওয়াও আশাও প্রায় শেষ।

এমনিতেই ইনজুরিতে জর্জরিত ছিল অস্ট্রেলিয়া দল। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডরা আগেই ছিটকে গেছেন। হালকা ইনজুরি নিয়েই খেলার জন্য তৈরি ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা ও টিম ডেভিড। এর মধ্যে ম্যাচের আগে জানানো হয় অধিনায়ক মিচেল মার্শ খেলতে পারছেন না আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। ফলে তার পরিবর্তে টাভিস হেডকে দেয়া হয় নেতৃত্ব। এতে দলে মোট ১২ জন খেলোয়াড় ছিলেন খেলার মতো। এই জটিল অবস্থার মধ্যেই তাদের বড় ব্যবধানে জয়। যা একই সাথে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিয়ে গেছে তাদের।

আসলে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ফাউন্ডেশনটা বেশ পোক্ত। তাই গ্যাপটা কেউ না কেউ পূরণ করেন দ্রুত। কালও তাই হয়েছে। তারকাদের অনুপস্থিতিতে জশ ইংলিস, মার্কাস স্টয়নিসরা ঠিকই জ্বলে উঠেছেন ব্যাট হাতে। সাথে যোগ হন ম্যাট রেনশ। এতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৮২ রান। এরপর বল হাতে আইরিশদের গুঁড়িয়ে দেয়ার দায়িত্বটা নেন অ্যাডাম জাম্পা ও নাথান এলিস। দু’জনেই চারটি করে উইকেট নেন।

মার্শের জায়গায় ওপেনিংয়ে নামেন জশ ইংলিস। ১৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ২৯ বলে সর্বোচ্চ ৪৫ রান আসে মার্কাস স্টয়নিসের ব্যাট থেকে। তাতে ছিল দু’টি চার ও একটি ছক্কা। এ ছাড়া ৩৩ বলে ৩৭ রান করেন ম্যাট রেনশ।

আয়ারল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন পেসার মার্ক অ্যাডেয়ার। চার ওভারে ৪৪ রান খরচায় নেন দুই উইকেট।

জবাবে কখনো মনে হয়নি আয়ারল্যান্ড হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ব্যাটিংয়ে কার্যকর জুটি গড়তে পারেনি তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৬.৫ ওভারে ১১৫ রানেই গুটিয়ে গেছে।

অধিনায়ক পল স্টার্লিং প্রথম দিকে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ায় বিপদে পড়ে শুরুতেই। সর্বোচ্চ ২৯ বলে ৪১ রান করেন জর্জ ডকরেল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন লরকান টাকার।

অসিদের হয়ে নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পাই আইরিশ ব্যাটিংয়ের সর্বনাশ করেছেন। ১২ রানে চারটি উইকেট নেন এলিস। পাওয়ার প্লেতে তার কারণেই ২৭ রানের মধ্যে চার উইকেট হারায় আইরিশরা। ম্যাচসেরাও তিনি। ২৩ রানে চারটি নেন অ্যাডাম জাম্পা।