ওয়াশিংটন পোস্ট
বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটিপতি হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন ইলন মাস্ক। তার মালিকানাধীন রকেট, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’ গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা শেয়ারবাজারে আসার জন্য প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে স্পেসএক্স প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঐতিহাসিক আইপিওর পথ তৈরি করেছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্লুমবার্গ ও ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী মাস্ক আগে থেকেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী। নতুন এই আইপিও মূল্যের ওপর ভিত্তি করে ওয়াশিংটন পোস্টের এক হিসাব মতে, স্পেসএক্সে মাস্কের শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর সাথে তার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের মূল্য যোগ করলে দু’টি কোম্পানিতে তার যৌথ সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন বা এক লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, এই সম্পদের পরিমাণ মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের চেয়েও ১০ গুণের বেশি এবং বিশ্বের পরবর্তী শীর্ষ চার ধনী ব্যক্তি- জেফ বেজোস, ল্যারি এলিসন, ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনের সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। অবশ্য মাস্কের এই ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদার পেছনে কিছু শর্ত বা ব্যাখ্যা রয়েছে। স্পেসএক্স ও টেসলা থেকে মাস্ক যে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন, তার একটি বড় অংশ মূলত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের সাথে যুক্ত। যেমন মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপন, মহাকাশে কম্পিউটার তথ্যকেন্দ্র পাঠানো কিংবা টেসলার ১০ লাখ হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের মতো লক্ষ্য পূরণ হলেই কেবল তিনি ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা থেকে সামান্য দূরে অবস্থান করছেন।
আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল শুক্রবার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের শেয়ার স্বাধীনভাবে কেনাবেচা করতে পারবেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবার যদি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৪০ ডলারে উন্নীত হয়, তবে মঙ্গল গ্রহের মিশন বা ভবিষ্যতের অতিরিক্ত শেয়ারের হিসাব ছাড়াই কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নিজের নাম লেখাবেন ইলন মাস্ক।



