আলজাজিরা
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২০২০ সালের করোনা মহামারীর মতো এক ভয়াবহ ধসের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রস্পেক্টস’ রিপোর্টে এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বব্যাংক তাদের আগের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে এখন ২ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আরো কমতে পারে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে সঙ্কটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালী, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ইরানের অবরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালী দিয়ে দৈনিক যেখানে প্রায় ১২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করত, তা এখন মাত্র পাঁচ থেকে সাতটিতে নেমে এসেছে। ফলে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের গড়মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি।
রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়, শুধু জ্বালানি নয়, এই সঙ্কটের ধাক্কা লেগেছে সারের বাজারেও। সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সারের দাম বাড়ছে, যা আগামীতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যের মূল্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। বিশ্বব্যাংকের মতে, জ্বালানি ও সারের বাজারের এই অস্থিরতা বজায় থাকলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে, এমন মন্দা পরিস্থিতি সর্বশেষ করোনা মহামারীর সময়ে দেখা গিয়েছিল।



