- এক বছরে বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০১ কোটি টাকা
- জিডিপির হিসাবে বৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ
জিডিপির হিসাবে নতুন বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ। আর টাকার অঙ্কে শিক্ষায় মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। আর এই বরাদ্দ মোট বাজেটের ১২ শতাংশের মতো। যদিও গত বছরের তুলনায় এবারে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৪৯ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। গত বাজেটে মোট বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। জিডিপির হিসেবে গতবারের এই বরাদ্দ ছিল এক দশমিক ৩৯ শতাংশ। মোট বাজেটে এর অনুপাত ছিল ১১ দশকিম ৮৮ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শিক্ষার কোন খাতে বরাদ্দ কত : খাতভিত্তিক বরাদ্দ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে নতুন বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। কারিগরি শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। বাকি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাদরাসা শিক্ষা খাতে।
মেয়েদের বিনামূল্যে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ : বাজেটে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা সম্প্রসারণের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। একইসাথে বাজেট বক্তব্যে শিক্ষায় জন্য পাঁটটি উদ্যোগের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড ডে মিল’ ও ইউনিফর্ম : অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব : অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে। শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা যেমন- জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ইত্যাদি কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সেসব দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনে ইচ্ছুকদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান করছে। প্রযুক্তি ও এআই নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
মাদরাসায় চালু হবে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি : বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে চাই। একইসাথে শিক্ষা খাতে আগামী অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করে সর্বমোট এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা যা জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ।



