নিজস্ব প্রতিবেদক
আবারো উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। শহুরে গণ্ডি পেরিয়ে মশাবাহিত এই রোগ এখন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যয়, কর্মঘণ্টা নষ্ট এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের সম্মিলিত প্রভাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশই রোগীর নিজের পকেট থেকে খরচ করে।
গতকাল রাজধানীর তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গু-জ্বর সচেতনতামূলক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে’ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-২ আসনের এমপি ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। সভাপতিত্ব করেন এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা: মো: নজরুল ইসলাম, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা: মাহমুদ হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মারজিয়া বেগম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: মো: জাহাঙ্গীর-উল আলম (সোহেল)। আলোচনা করেন বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা: মোস্তাফিজুর রহমান, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: মাহবুব ইসলাম মজুমদার এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা: আব্দুল্লাহ সাঈদ খান। তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল মৌসুমি অভিযান যথেষ্ট নয়। বছরব্যাপী সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে। সে বছর তিন লাখের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং প্রায় এক হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালেও প্রায় এক লাখ মানুষ আক্রান্ত হন, মারা যান ১৪৭ জন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিঙ্গাপুর জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ওলবাকিয়া নামক ব্যাকটেরিয়াবাহী মশা ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য, উলবাকিয়াযুক্ত এডিস পুরুষ মশার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় বলে স্ত্রী মশা আর ডেঙ্গু জীবাণুযুক্ত মশার জন্ম দিতে পারে না। তারা আরো বলেন, করোনা মহামারীর সময় স্থাপিত পিসিআর মেশিনগুলো বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই অব্যবহৃত রয়েছে। এসব যন্ত্র ব্যবহার করে ডেঙ্গু ভাইরাসের কোনো সেরোটাইপ বা ধরন সক্রিয় রয়েছে তা শনাক্ত করা সহজ এবং রোগীর যথাযথ চিকিৎসা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



