পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটায় ক্ষতি নেই : সেতুমন্ত্রী

Printed Edition

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা

পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটার কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই, বরং ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, নির্মিত ভায়াডাক্টের নিচে নির্মাণকাজের সময় তৈরি করা অস্থায়ী মাটির রাস্তা অপসারণ করে প্রকল্প এলাকার মূল জলাভূমি পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

গতকাল সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মারেলব্রিজের ভায়াডাক্টের নিচে চলমান ডিমোবিলাইজেশন কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি আরো বলেন, ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের জন্য অস্থায়ীভাবে ভরাট করা মাটি এখন প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী অপসারণ করা হচ্ছে। পদ্মা রেলসেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণের ফলে রেললাইন বা কাঠামোর কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে না। বরং প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বার্থেই এই কাজ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে সাড়ে তিন ফুট মাটি অপসারণ করা হবে। এতে ভায়াডাক্ট বা রেললাইনের কোনো ঝুঁকি নেই। বরং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এ কাজ প্রয়োজন। তিনি বলেন, পুরো কাঠামো প্রকৌশলগতভাবে নিরাপদ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের স্বার্থেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্টের নির্মাণকাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পের ডিমোবিলাইজেশন পর্যায়ে সেই মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রকল্প এলাকার পূর্ববর্তী অবস্থা সম্পর্কিত স্যাটেলাইট চিত্র এবং জলাভূমি জরিপে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, নির্মাণকাজের আগে এলাকাটি বিস্তীর্ণ জলাভূমি ছিল। অস্থায়ী মাটির কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ভায়াডাক্টের নিচ থেকে মাটি সরানোর ফলে সেতুর নিরাপত্তা বা কাঠামোর ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ ভায়াডাক্টটি প্রায় ২০০ ফুট গভীরে স্থাপিত শক্তিশালী পাইলের ওপর নির্মিত হয়েছে। অস্থায়ী মাটি অপসারণের পরও পাইল ক্যাপ ও মূল কাঠামো নিরাপদ অবস্থানে থাকবে। তিনি জানান, প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে কাজ শেষে অস্থায়ী মাটির রাস্তা অপসারণ করে প্রকল্প এলাকাকে পূর্বের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসারেই কাজ করা হচ্ছে।

মোট ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের মাটি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আলীগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান, রেল মন্ত্রনালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম, নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধŸতন কর্মকর্তারা।