ক্রীড়া ডেস্ক
ইউরোর বাছাইপর্বে ২০০৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হেরে মূল পর্বে খেলা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। আর ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে থ্রি লায়নদেরকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল লুকা মডরিচের দল। এই দুই হারের প্রতিশোধ ২৩তম বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ইংলিশরা। ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন হ্যারি কেন। আর এই দুই গোলের সুবাদে ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড। এই দু’টি গোলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে গ্যারি লিনেকারের পাশে বসলেন কেন (১০টি)। পরে জালের দেখা পেলেন জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস রাশফোর্ড। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে দু’টি গোল করেন মার্টিন বাতুরিনা ও পেটার মুসা।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে গতকাল শুরু হওয়া ম্যাচে আক্রমণে আধিপত্য করল ইংল্যান্ড। রেকর্ড গড়া হ্যারি কেনের দুই গোলের মাঝে দুইবার সমতা টেনে লড়াই জমিয়ে তুলেছিল ক্রোয়েশিয়া। তৃতীয় দফায় পিছিয়ে পড়ার পর আর পারল না তারা। দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল টমাস টুখেলের দল। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ সময় বল পজিশন রেখে গোলের জন্য ২০টি শট নিয়ে ১২টি ল্েয রাখে ইংল্যান্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়ার ১১ শটের পাঁচটি ল্েয ছিল।
ঘটনাবহুল এক পেনাল্টিতে দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সে ননি মাদুয়েকেকে ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক লুকা মডরিচ ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। প্রথম দফায় কেনের স্পট-কিক ঠেকিয়ে দেন দমিনিক লিভাকোভিচ। কিন্তু শট নেয়ার আগেই তিনি লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় ভিএআরের সাহায্যে আবার শট নিতে দেন রেফারি। এবার আর ভুল করেননি ইংল্যান্ডের সফলতম গোল স্কোরার।
দ্বিতীয় ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের তিন ভিন্ন আসরে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) গোল করার কীর্তি গড়লেন কেন। প্রথমজন ছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম (১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬)। বল দখলে আধিপত্য করে বারবার আক্রমণে উঠছিল ইংল্যান্ড। যদিও প্রতিপরে রণে গিয়ে সুবিধা করতে পারছিল না তারা। এর মাঝেই ৩৬ মিনিটে ল্েয নিজেদের প্রথম শটেই সমতা টানে ক্রোয়েশিয়া। বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন বিশ্বকাপে অভিষিক্ত বাতুরিনা। যদিও ক্রোয়াটদের ওই স্বস্তি বেশিণ থাকেনি। ৫ মিনিট পরই ডেকান রাইসের কর্নারে হেডে আবার দলকে এগিয়ে নেন কেন। কাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়ে আসা কেনের জাতীয় দলের জার্সিতে গোল হলো ৮১টি।
তবে ইংল্যান্ডের আনন্দ আবার মাটি হয়ে যায় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। মারিওর ক্রসে বক্সে ইভান পেরিসিচের হেড পাসে কাছ থেকে ল্যভেদ করেন মুসা। ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো ৪৭ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন জুড বেলিংহ্যাম। সাথে লেগে থাকা প্রতিপরে খেলোয়াড়কে সুযোগ না দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নিলে দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ৫৫ মিনিটে ডাবল সেভে ব্যবধান বাড়তে দেননি লিভাকোভিচ। কাছ থেকে ও’রাইলির পর অ্যান্থনি গর্ডনের হেড ফিরিয়ে দেন তিনি।
৭৬ মিনিটে মারিওর শট ফিরিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন ইংল্যান্ড গোলরক জর্দান পিকফোর্ড। নির্ধারিত সময়ের ৫ মিনিট বাকি থাকতে ক্রোয়েশিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও মাটি করেন রাশফোর্ড। বক্সের বাইরে ফাঁকায় পাস পেয়ে এই ফরোয়ার্ড প্রতিপ ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে গোলটি করেন।



