বিশেষ সংবাদদাতা
- আইনের সংশোধিত সুপারিশ চূড়ান্ত, দ্রুত মন্ত্রণালয়ে যাবে -ইসি সচিব
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্রবাহিনীকে যুক্ত করার সুপারিশ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও যেন প্রার্থী হতে না পারেন সে জন্য আইন সংশোধনের চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসির কমিশন সভা। এছাড়া নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্রবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনের সংশোধিত সুপারিশ চূড়ান্ত, দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের সভা কক্ষে মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় আইনের এসব সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদনের জন্য এখন এসব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সভায় চার কমিশনার, ইসি সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল- স্থানীয় সরকার পরিষদসমূহের বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা, ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬ চূড়ান্তকরণ। বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন-বিধি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলার পরিষদের যে আইনগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ঋণখেলাপী ও ঋণের জামিনদাররাও প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। এছাড়া ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন।
ইসি সচিব বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা- সবগুলোর আইনে এটা সেভাবে নেই। কাজেই আমরা মনে করি যে, সবগুলোর আইনে এটি যুক্ত করা উচিত। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি পারবেন না, এই বিষয়টা কমিশন মনে করে যে না, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন।
তিনি বলেন, ঋণখেলাপি বলে যে বিষয়টা আছে, এখানে দুটি ক্ষেত্র- একটা হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং জামিনদার তো যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা তিনি তো আছেনই। কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য করার একটা প্রস্তাবনা আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি।’
সচিব বলেন, পাশাপাশি বিলখেলাপি, যেমন ধরুন- আপনার ইলেকট্রিসিটি বিল, ভূমি কর, ওয়াসা- এ ধরনের যেসব সেবা প্রদানকারী সংস্থা, সেখানে যদি কোনো বিলখেলাপি থাকে, সেটি ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। ধরুন আমি একটা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানটাই বিলখেলাপি করেছে, সেক্ষেত্রে এটা অযোগ্যতা হিসেবে আসবে। তিনি জানান, লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না। আবার দ্বৈত নাগরিকত্বধারী যারা, তাদেরকেও আমরা মনে করি, কমিশন মনে করে যে, তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সংবিধানে এটার একটা সীমাবদ্ধতা দেয়া আছে।
ইসি সচিব বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠাবো, তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন কি আজই চূড়ান্ত করছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা আইনের কিছু প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কি পরিবর্তন আসছে- এ ব্যাপারে ইসি সচিব জানান, সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে সবগুলোর ভেতরে সশস্ত্রবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা।
প্রস্তাবনা কবে পাঠাবেন- জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, যত তাড়াতাড়ি পারি। কাল-পরশু তৈরি হয়ে গেলে পাঠিয়ে দেবো।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমরা ১৬ বছর ও তদূর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির জন্য বা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। তার আগ পর্যন্ত এটা ডরম্যান্ট (থাকে।’
ইসি সচিব বলে, এই ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়- সেটা নিয়ে আরো কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এটা এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাথমিক, যেটাই হোক না কেন, একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্তে আসব।



