ক্রীড়া ডেস্ক
চারবারের বিশ^কাপ জয়ী দেশ ইতালি। যার সর্বশেষটি ২০০৬ সালে। মানে এই শতাব্দীতে। সেই ইতালিই ২০১৮ ও ২০২২ বিশ^কাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। এই বর্থ্যতার মধ্যেও তারা বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইউরোতে শিরোপা জয়। ওই টাইব্রেকারে নায়ক ছিলেন জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। সেই স্পট কিকে দুই ইংলিশ ফুটবলারের শট রুখে দিয়েছিলেন তিনি। পরশু রাতে এবারের বিশ^কাপ প্লে-অফ ফাইনাল ১-১ এ ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার পর খেলা যখন টাইব্রেকারে তখন ভাষ্যকারের মুখে বারবারই তিন বছর আগে দোন্নারুমার সেই কীর্তির কথা। তাদের আশা ছিল এবারো হয়তো পোস্টের নিচে ইতালিয়ানদের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠবেন তিনি। টানা তিনটি শটে বর্থ্য হওয়ার পর চতুর্থ শটে বসনিয়া গোল করলেই বিদায় ইতালির। তাই আগের তিন শটে ডজ খেয়ে গোল হজম করলেও চতুর্থ শটে প্রাণপণে চেষ্টা করেন দোন্নারুমা। এবার সঠিক সাইডেই শরীর ফেললেন তিনি। অবশ্য বেঞ্জামিন তাহিরোভিচের শটটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে তা আর আটকাতে পারলেন না ইতালির শেষ প্রহরী। সাথে সাথেই গ্যালারিসহ পুরো বলকান দেশটিতে উল্লাস। অন্য দিকে হতাশায় মাটিতে নুইয়ে পড়েন। এই হারে বিদায়ের ফলে নতুন রেকর্ড গড়লো ইউরোপিয়ান দেশটি। তারাই প্রথম কোনো বিশ^কাপ জয়ী দল যারা টানা তিনবার বিশ^কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা থেকে বঞ্চিত ।
২০০৬ জার্মানির মাটিতে শেষবার বিশ^কাপ জয় ইতালির। তবে লক্ষণীয় বিষয় পরের দুই বিশ^কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডেও যাওয়া হয়নি তাদের। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০১৪-এর ব্রাজিল বিশ^কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই দেশে ফেরার বিমান ধরতে হয়েছিল। এবার আর হতাশা নয়। এই পণে তাই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা- মেক্সিকো বিশ^কাপ বাছাইপর্বে শুরু থেকেই দাপটের সাথে খেলতে থাকে তারা। প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে হারের পরের ছয় ম্যাচেই তাদের জয়। মলদোভাকে ২-০ ও ২-০, এস্তোনিয়াকে ৫-০, ৩-১,, ইসরাইলকে ৫-৪ ও ৩-০ গোলে হারায়। কিন্তু দুই পর্বে নরওয়ের কাছে হারই (৩-০ ও ৪-১) তাদের সরাসরি কোয়ালিফাই করার রাস্তা রুদ্ধ করে দেয়। শেষ ভরসা ছিল প্লে-অফ। সেখানে প্লে-অফ সেমিফাইনালে নর্দান আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারালেও ফাইনালে আর কুলিয়ে উঠতে পারেনি।
বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেনিকা শহরের বিলিনো পেলজো স্টেডিয়াম। এতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে লিড নিয়েছিল ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। ১৫ মিনিটে মাইসো কিয়ানের গোলে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ। যদিও সমান তালেই লড়ছিল বসনিয়া। এরপর ৪১ মিনিটে আলেসান্দ্রো বাস্তিনি লালকার্ড পেলে ১০ জনে পরিণত হয় সফরকারীরা। এত খোলসে ঠুকে পড়া ইতালিয়ানদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে বসনিয়া। তবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল এক খেলোয়াড় কম নিয়েই এবার আগেই দুই অনুপস্থিতির অভাব পূরণ করবে। তবে সার্বিয়ার সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা পোক্ত করা দেশটি ছেড়ে কথা বলছিল না। শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিটে গোল লাইনের সামনে থেকে জটলায় বল পেয়ে ডান পায়ের শটে তা জালে পাঠিয়ে বসনিয়াকে আশায় রাখেন হারিস তাবাকোভিচ। এরপর খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। তখন থেকেই টাইব্রেকারে ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার ছক কষে ইতালি।
টাইব্রেকারে বসনিয়ার এসমির বাজরাকতারেভিচ, কেরিম আলাজবেগোভিচ, হারিস তাবাকোভিচ ও বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ গোল করেন। টাইব্রেকারে প্রথম শটে গোল করতে ব্যর্থ ইতালির ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে। তার শট ক্রসবারে লাগে। দ্বিতীয় শটে সান্দ্রো তানোলি গোল করলেও চতুর্থ শটে বল ওপর দিয়ে মারেন পিও এসপোসিত। ফলে চতুর্থ শটে বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ বল জালে পাঠানোর সাথে সাথেই ২০১৪ সালের পর ফের বিশ^কাপে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনিয়া। আর আগামী বিশ^কাপে দর্শকের কাতারে চলে গেল ইতালি।
উল্লেখ্য, প্লে-অফ সেমিফাইনালেও বসনিয়া টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতেছিল ওয়েলস এর বিপক্ষে।



