ধ্বংসস্তূপে বসেই বিশ্বকাপ উপভোগ করছে গাজাবাসী

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় থেমে নেই ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা, যদিও বেশির ভাগ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুতে বসবাস করছেন। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও অনেক ফিলিস্তিনি সীমিত সুযোগে খেলা দেখার চেষ্টা করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গাজার প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার ফাদি আল-আরাউই দুই বছরের বেশি সময় ধরে মাঠে নামতে পারেননি। যুদ্ধ শুরুর পর পেশাদার ক্রীড়া কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে খান ইউনুসের একটি স্কুলভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্রে বন্ধুদের সাথে একটি ল্যাপটপে ইন্টারনেট সংযোগ ধরে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার চেষ্টা করেন তিনি। আল-আরাউই বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল, চার দিকে ড্রোনের শব্দ শোনা যায় এবং যেকোনো মুহূর্তে হামলার আশঙ্কা থাকে। তারপরও মানুষ কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধের ভয়াবহতা ভুলে খেলার আনন্দ খুঁজে নিতে চায়। গাজা সিটির রয়্যাল ক্যাফের মালিক আলা বাবলি জানান, ম্যাচ সম্প্রচার চালিয়ে রাখতে তিনি বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ ও ব্যাটারির ব্যবস্থা করেছেন। হানি আবু রিজক নামে এক দর্শক বলেন, জনসমাগমস্থলও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে, তবু মানুষ খেলা দেখা বন্ধ করতে চায় না।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে চলমান যুদ্ধে প্রায় এক হাজার ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ২৮৫টি ক্রীড়া স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় হাজারো দর্শকে মুখর থাকা গাজা সিটির আল-ইয়ারমুক স্টেডিয়াম এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

গাজায় তিন বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা

গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ এলাকায় তিন বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুকে ইসরাইলি বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার। নিহত শিশুর নাম রায়ান আবু আল-আজিন। রোববার বিকেলে ওয়াদি আল-সালকা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে সোমবার তার লাশ আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, রায়ানের বাবা বাহা আবু আল-আজিন তাকে কোলে নিয়ে পরিবারের কৃষিজমির দিকে যাচ্ছিলেন। তারা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে অবস্থান করছিলেন, অর্থাৎ ইসরাইলি বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ছিলেন না। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিতে রায়ান নিহত হয় এবং তার বাবা পায়ে গুরুতর আহত হন।

শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে হাজারো শিশু

গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ধারাবাহিক বোমা হামলার কারণে হাজারো শিশু আংশিক বা সম্পূর্ণ শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেলে একটি পুরো প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবে ভাষা শেখা ও যোগাযোগের ক্ষমতা হারাতে পারে। আলজাজিরা জানায়, জাবালিয়া এলাকার শিশু ওয়াতিন আল-আজরামি মাত্র এক বছরের কিছু বেশি বয়সে একটি বিস্ফোরণের অভিঘাতে গুরুতর শ্রবণশক্তি হারায়। তার মা মরিয়ম জানান, ২০২৫ সালের আগস্টে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি কক্ষে অবস্থানকালে কাছাকাছি ইসরাইলি হামলার বিস্ফোরণে ওয়াতিনের কানে মারাত্মক ক্ষতি হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার বাম কানে ৮৫ শতাংশ এবং ডান কানে ৯০ শতাংশ শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়েছে।