বেড়াতে যাওয়ার সময় পোশাক, প্রসাধনী, জরুরি ওষুধে নজর থাকে। কিন্তু সেই গোছগাছের মধ্যে আলাদাভাবে চোখের জিনিসপত্র গুরুত্ব পায় কি? চোখের চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, সামান্য ভুলত্রুটির জন্যই বেড়াতে গিয়ে চোখ নিয়ে ভুগতে হতে পারে। এই ব্যাপারে সামান্য সচেতনতাই নিরাপদ করে তুলবে সফর। কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি?
সানগ্লাস : সানগ্লাসকে শুধু ফ্যাশনের অঙ্গ ভাবলে কিন্তু ভুল হবে। বরং এটি চোখের সুরক্ষাবর্ম। বেড়াতে গেলে রাস্তাঘাটে ধুলো থাকবেই। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি, ধুলা থেকে চোখ বাঁচাতে ভালো মানের সানগ্লাস রাখা জরুরি। তা ছাড়া, বরফের জায়গায় বেড়াতে গেলে সানগ্লাস, সোয়েটার-টুপির মতোই জরুরি। বরফের উপর রোদ প্রতিফলিত হয়ে চোখে পড়লে, তাকাতে অসুবিধা হবে। এতে চোখের ক্ষতিও হতে পারে। ভালো হয়, যদি ইউভি প্রোটেক্টর যুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করা যায়।
বাড়তি চশমা : অনেকেরই চোখে প্রচুর পাওয়ার আছে। বিশেষত দূরের জিনিস দেখার সমস্যা থাকলে সাথে বাড়তি চশমা রাখা খুব জরুরি। যদি কেউ নিজে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে যান বা গাড়ি চালিয়ে ঘোরার পরিকল্পনা করেন, তা হলে গাড়িতেই অতিরিক্ত চশমা রাখুন। অসাবধানে চশমা ভেঙে যেতেই পারে। অতিরিক্ত চশমা না থাকলে দেখতে সমস্যা হবে। সে ক্ষেত্রে গোটা ট্রিপটাই নষ্ট হতে পারে।
কনট্যাক্ট লেন্স : যারা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাদের সাথে লেন্স রাখার অতিরিক্ত বাক্স এবং দ্রবণ সাথে রাখা উচিত। লেন্স যদি ঠিকমতো রাখা না হয়, তা থেকেই চোখে সংক্রমণ হতে পারে। লেন্স থাকলেও সাথে চশমা রাখুন। লেন্স পরতে কোনো সমস্যা হলে বা চোখে আচমকা সংক্রমণ হলে চশমা পরা অনেক বেশি নিরাপদ হবে।
চোখে হাত : চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন অপরিচ্ছন্ন হাত চোখে না দিতে। অনেক সময় চোখ চুলকায়। তখন প্রায় সবাই অপরিচ্ছন্ন হাতটি দিয়ে চোখ রগড়ে ফেলেন। তা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। আবার অনেকেই দীর্ঘ যাত্রার পর পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ-চোখ ধুয়ে নেন। পানি যদি কোনো কারণে দূষিত হয়, তা থেকেও চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। তাই যেখানে-সেখানে, যখন-তখন পানির ঝাপটা দিয়েও চোখ ধোয়া ঠিক নয়। সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে বা রাস্তায় থাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করার পরে চোখে হাত দিতে পারেন।
ড্রাই আইজ : অনেকেরই হঠাৎ করে চোখ জ্বালা করে বা করকর করে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকলে বা কোনো কারণে চোখের পানি শুকিয়ে গেলে এমন সমস্যা হয়। লম্বা বিমান সফরে এমন সমস্যা অনেকেরই হয়। কারণ, বিমানের আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক থাকে। তাই বেড়াতে গেলেও নিয়ম করে পানি খাওয়া দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে, ড্রাই আইজের জন্য ড্রপ সাথে রাখা যেতে পারে।
সুরক্ষা : চোখে অনেক পাওয়ার থাকলে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে ফেলুন। অ্যান্টি-গ্লেয়ার লেন্স ব্যবহার করলেও স্ক্রিনের ব্লু-লাইট থেকে চোখকে কিছুটা বাঁচানো যায়। ইন্টারনেট।



