আনাদোলু
লেবাননে সংঘটিত ‘গণহত্যার অপরাধের’ দায়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার থেকে বৈরুত কখনোই সরে আসবে না। সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি দৃঢ়তার সাথে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
লেবানিজ শিয়া আলেম ও আমাল মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা মুসা আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ১৯৭৮ সালে লিবিয়া সফরের সময় দুই সঙ্গীসহ তিনি নিখোঁজ হন, যার জন্য লেবাননের শিয়া সম্প্রদায় লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে দায়ী করে থাকে।
অনুষ্ঠানে নাবিহ বেরি বলেন, ইসরাইলের মোকাবেলার জন্য সাম্প্রদায়িক হিসাব-নিকাশ ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য কেবল হিজবুল্লাহ, তাদের অস্ত্র, আমাল বা শিয়া সম্প্রদায় নয়; বরং লেবানন রাষ্ট্র, এর জাতীয় ঐক্য এবং অভ্যন্তরীণ শান্তিই তাদের মূল নিশানা।
চলমান সঙ্ঘাতের মধ্যে আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমরা জুন মাসের কাঠামোগত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছি এবং হামলার শিকার হওয়া অবস্থায় দখলদার ইসরাইলের সাথে সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছি। আগের আলোচনার ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, সাত দফা আলোচনা থেকে কী অর্জিত হয়েছে? দখলকৃত এলাকার পরিধি বেড়েছে, ধ্বংসযজ্ঞ তীব্র হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা কেবল বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ইতালিতে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে অষ্টম দফার সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ৬ আগস্ট সপ্তম দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। লেবানন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা।



