কেরানীগঞ্জের ১৪ স্পটে দিনদুপুরে মাদক বিক্রি

Printed Edition

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

দিনের আলোয় চারপাশে মানুষের ব্যস্ত চলাচল। এর মধ্যেই পকেট থেকে অনায়াসে বের হচ্ছে গাঁজার পুরিয়া, ইয়াবার পাতা কিংবা হেরোইনের মোড়ক। কোনো লুকোছাপা নেই, রাজধানীর সীমান্তবর্তী কেরানীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন এটাই নিত্যদিনের চিত্র। আগানগর থেকে কদমতলী, উপজেলার অন্তত ১৪টি পয়েন্টে প্রকাশ্যে চলছে এই মাদকের হাট। সিন্ডিকেটের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না, আর পুলিশ বলছে তাদের ‘বিশেষ অভিযান’ চলমান রয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে কেরানীগঞ্জ এখন মাদক কারবারিদের অন্যতম ‘নিরাপদ জোন’ হয়ে উঠেছে। উপজেলার আগানগর, আমবাগিচা খেলার মাঠ, জেলেপাড়া, খালপাড়, নতুন শুভাঢ্যা, কালীগঞ্জ, ইস্পাহানি, চুনকুটিয়া, বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়, বিড়িবাঁধ রোড, থানা রোড, জিঞ্জিরা, ভাগনা এবং কদমতলীসহ মোট ১৪টি স্পটে প্রতিদিন অবাধে হাতবদল হচ্ছে নানা রকমের মরণনেশা।

নদী ও স্থলপথের বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কিভাবে এই মাদকের চালান ঢুকছে এবং কারা এর নেপথ্যে মূল হোতা- তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে ভয়ে কেউ তথ্য দিতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ করলে হুমকি, মিথ্যা মামলা ও শারীরিক হামলার শিকার হতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

কদমতলী এলাকার এক মুদি দোকানদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুইবার মার খেয়েছি। এখন চোখের সামনে সব দেখলেও বউ-বাচ্চার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে চুপ করে থাকি।’

বুড়িগঙ্গার তীরের এক চা বিক্রেতা বলেন, “আমাদের চোখের সামনে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো ‘তুই কেডা’ বলে তেড়ে আসে। প্রশাসন মাঝে মাঝে এসে অভিযান চালিয়ে চলে যায়, তারা যাওয়ার পর মাদক কারবারিরা আবার এসে বসে।”

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তবে এটি শুধু পুলিশের একার পক্ষে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) আরো সক্রিয় সম্পৃক্ততা ও সমন্বয় প্রয়োজন।’

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বর্তমানে এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়েরসহ বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সমস্যাটিকে তিনি কেবল স্থানীয় নয়, বরং একটি ‘জাতীয় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।