মক্কা চুক্তি বনাম ইসরাইল-আমিরাত জোট মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার নতুন ভারসাম্য

মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ

Printed Edition

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিপরীতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও গোয়েন্দা কৌশলগত অংশীদারত্ব আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্টে দুই জোটের আড়ালে থাকা সামরিক সমন্বয়, কৌশলগত সুবিধা এবং ক্ষমতার দ্বিমুখী টানাপড়েনের চিত্র উঠে এসেছে।

ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমিরাত ও ইসরাইলের বর্তমান সামরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন। চলতি বছরের শুরুতে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে আমিরাতকে সুরক্ষায় ইসরাইল তাদের ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করে। পরে তেহরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানেও অংশ নেয় আবুধাবি। অন্য দিকে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক, পারমাণবিক ক্ষমতাবান পাকিস্তান ও জি-২০ ভুক্ত অর্থনৈতিক পরাশক্তি সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা চুক্তির ভিত্তি প্রকাশ্য এবং এর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অনেক সুদৃঢ়। তবে বাস্তবভিত্তিক সামরিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে মক্কা চুক্তির তিনটি দেশের নিরাপত্তা ভাবনায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। অতীতে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের সময় পাকিস্তান সরাসরি অংশ না নিয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। তদুপরি, সামরিক সরঞ্জামের উৎস ভিন্ন হওয়ায় (তুরস্কের ন্যাটো ব্যবস্থা, পাকিস্তানের চীনা প্রযুক্তি এবং সৌদি আরবের মার্কিন নির্ভরতা) সামরিক কাঠামো একীভূত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিপরীত দিকে, আমিরাত ও ইসরাইলের মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সরঞ্জামগুলো একে-অপরের সাথে সহজে সমন্বয়যোগ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক যুদ্ধপ্রস্তুতি, সরাসরি গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং নমনীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ইউএই-ইসরাইল অক্ষ এগিয়ে থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত গভীরতা, স্পষ্ট পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যতে নতুন মিত্র অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনায় মক্কা চুক্তি ভবিষ্যতে আরো প্রভাবশালী ব্লকে পরিণত হতে পারে।