দ্বিতীয় টি-২০ আজ

টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ টাইগারদের

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

হারানোর কিছু নেই, বরং ফিরে পাওয়ার অনেক কিছুই আছে বাংলাদেশের। তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাজেভাবে হেরে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছে টাইগাররা। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাস নিয়ে টি-২০ নামা দলটির কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতা, পরিকল্পনার ঘাটতি আর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভেঙে পড়া সেই স্বপ্নকে প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-২০ হেরে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা। সিরিজে টিকে থাকতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের ল্য নিয়ে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টায়।

এখন সামনে শুধু একটি সমীকরণ। জিততেই হবে। দ্বিতীয় টি-২০ তে হার মানেই সিরিজ হাতছাড়া, আর শেষ ম্যাচটি হয়ে যাবে শুধুই আনুষ্ঠানিকতা, আর পাছে থাকবে ধবলধোলই এড়ানোর। তবে জয় পেলে দৃশ্যপট বদলে যাবে মুহূর্তেই। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি রূপ নেবে অলিখিত ফাইনালে, যেখানে সিরিজ নির্ধারণ হবে এক ম্যাচের লড়াইয়ে। তাই দ্বিতীয় ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি খেলা নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার, সমালোচনার জবাব দেয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপে লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্য নতুন করে প্রমাণ করার মঞ্চ। ধবলধোলাই এড়াতে হলে টাইগারদের নামতে হবে নিজেদের সেরা রূপে, এখন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর।

টি-২০তে খেলতে নামার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপে ২-১ ব্যবধানে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। সে কারণে আত্মবিশ্বাস নিয়েই টি-২০ সিরিজে খেলতে নামে টাইগাররা। কিন্তু সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। চট্টগ্রামে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৪ উইকেটের হার দিয়ে সিরিজ শুরু করতে হয় বাংলাদেশকে। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া তৌহিদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়ার চার স্পিনারের ঘূূর্ণিতে কুপোকাত হয়ে ১৯ ওভারে অলআউট হবার আগে ১৩১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন আট নম্বরে নামা মাহেদি হাসান। এ ছাড়া সাইফ হাসান ২০, সৌম্য সরকার ১৭ ও তানজিদ হাসান-পারভেজ হোসেন ইমন ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১০ রান করে করেন। বাংলাদেশের পতন হওয়া ১০ উইকেটের মধ্যে ৯ উইকেটই নেন অস্ট্রেলিয়ার চার স্পিনার জাম্পা-জোয়েল-রেনশ ও নিখিল চৌধুরী।

১৩২ রান তাড়া করতে নেমে বেগ পেতে হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ১০ বল বাকী রেখে জয়ের বন্দরে পা রাখে অসিরা। দলের হয়ে কুপার কনোলি ২৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন। প্রথম টি-২০ হারের জন্য ব্যাটারদের দায়ী করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক হৃদয়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের অন্তত ১৬০ বা ১৭০ রান করা উচিত ছিল। ইনিংসের মাঝপথে উইকেট হারিয়েছি। কোন জুটি গড়তে পারিনি।’

প্রথম ম্যাচে হারের দুঃস্মৃতি ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া হৃদয়। তিনি বলেন, ‘আশা করি আমরা ঘুরে দাঁড়াবো। সবাই জানি আমরা কি ভুল করেছি। আশা করি পরের ম্যাচে আমরা ভুলগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব।’

ব্যাটাররা খারাপ করলেও প্রথম টি-২০তে বোলারদের পারফরম্যান্সে খুশি হৃদয়। তিনি জানান, প্রতি ম্যাচেই বোলাররা ভালো করছে। ‘১৩১ রানের পুঁজি লড়াই করার জন্য যথেষ্ট নয়। এই রান নিয়ে লড়াই করতে হলে অনেক বেশি ভালো বল করতে হয়। অবশ্য প্রতিটি সিরিজ এবং প্রতিটি ম্যাচে বোলিং ইউনিট ভালো করেছে। পরের ম্যাচগুলোতেও বোলাররা আরও ভালো করবে বলে আমি আশা করি।’

জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করতে পারায় খুশি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চান তিনি। ‘জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করাটা সবসময়ই আনন্দের। বিশেষ করে তিন ম্যাচের সিরিজে। এজন্য দলের সবাই অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও উজ্জীবিত হয়েছে। এখন আমাদের ল্য সিরিজ জয়। দ্বিতীয় ম্যাচও জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে চাই।’

এখন পর্যন্ত টি-২০তে ১২বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। এরমধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে চারবার। অস্ট্রেলিয়ার জয় আটবার। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপে টি-২০ সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। ২০২১ সালে মিরপুরে অসিদের বিপে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-১ এ জিতেছিল বাংলাদেশ।