মোবাইলে কার্টুন না চালালে খেতেই চায় না শিশু। এমন অভিযোগ অনেক বাবা-ময়েরই। অনেকে আবার গর্ব করে এমনও বলেন, শিশুর মুখে বুলি ফোটেনি, অথচ সে মোবাইলে ছবি তুলতে শিখে গেছে। ইউটিউব খুলে নিজেই একটির পর একটি ভিডিও চালিয়ে নেয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, দুই বছর বা তিন বছরের কমবয়সী যে শিশুরা দিনভর মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে, তাদের জন্য মোবাইল কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, সে ধারণা নেই অনেক অভিভাবকেরই। দেখা গেছে, যে শিশু দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকে তার বুদ্ধির বিকাশ হবে অনেক দেরিতে। সে শিশু কথা বলাও অনেক দেরিতে শিখবে।
স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন মস্তিষ্ক, কান-সহ নানা অঙ্গের ক্ষতি করে। একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সময়ে তা আরো ক্ষতিকর। মস্তিষ্ক ও কানে ‘নন-ম্যালিগন্যান্ট টিউমার’ হওয়ার ভয়ও উড়িয়ে দেয়া যায় না। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। তারা জানান, হাজার জনের বেশি শিশু, যাদের বয়স এক থেকে দুই বছরের মধ্যে তাদের উপর সমীক্ষা চালানো হয়। দেখা গেছে, যে শিশুরা দিনের বেশিটা সময় মোবাইল দেখে, তাদের বেশির ভাগেরই মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ থমকে গেছে। সে শিশুরা বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরও ঠিকমতো কথা বলা শেখেনি। অনেকে আবার অটিজমে আক্রান্ত হয়েছে। সাধারণত শিশুর মস্তিষ্কের ত্বক, কোষ এবং হাড় তুলনায় অনেক নরম ও পাতলা হওয়ার দরুন তা প্রাপ্তবয়স্কের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি রেডিয়েশন গ্রহণ করে। তাই মোবাইল আসক্তিতে ছোটদের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, শিশুর কেবল মনোযোগ কম তা নয়, শিশু ঠিকমতো কথাও বলতে পারে না। আবেগ প্রকাশেও অক্ষম। কারণ, বাড়িতে কেউ তার সাথে সেভাবে কথা বলে না। তার হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় মোবাইল কিংবা ট্যাব। এতেই ব্যস্ত থাকছে শিশু। আর স্বস্তি পাচ্ছেন অভিভাবকরা। সন্তানের হাজারো বায়না সামলাতে হচ্ছে না। তাকে খাওয়ানোর ঝক্কি উধাও। হাতে ট্যাব বা মোবাইল ধরালে নিমিষে শেষ হচ্ছে মুখের গ্রাস। দীর্ঘ সময়ে শান্তও থাকছে শিশু। আর এতেই বিপদ ঘনাচ্ছে। শিশুর বুদ্ধির বিকাশ থমকে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মস্তিষ্কের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনই অন্য দিকে ছোট থেকেই স্নায়ুর নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। ইন্টারনেট।



