এ এম ওমর আলী চকরিয়া উপকূল (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে অবৈধভাবে পশুর হাট বসিয়ে লাখ লাখ টাকা টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো বৈধ ইজারা ছাড়াই প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় মাঠে পশু কেনাবেচার হাট পরিচালনা করছে। এতে এক দিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্য দিকে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিচালিত এই অবৈধ হাটের কারণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ময়লা-আবর্জনা ও পশুর বর্জ্যে ভরে যাচ্ছে। দুর্গন্ধ ও শব্দদূষণের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলেও দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার উপকূলীয় পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া জমিদারবাড়ি সংলগ্ন বিদ্যালয় মাঠে নিয়মিত পশু কেনাবেচা চলছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া এনে সেখানে বিক্রি করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে ব্যাপক বেচাকেনা চলতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের একটি পরিত্যক্ত স্থানে পশুরহাট স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু চলতি বছরের কোরবানির ঈদের আগে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি পাওয়ার পর একটি প্রভাবশালী চক্র ঈদ শেষে বিদ্যালয় মাঠেই স্থায়ীভাবে হাট পরিচালনা শুরু করে।
স্থানীয়দের দাবি, কোরবানির ঈদের জন্য দেয়া সাময়িক অনুমতির সুযোগ নিয়ে এখন নিয়মিত টোল আদায় করা হচ্ছে। যদিও হাট পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টদের একজন দাবি করেন, পশু বিক্রি হলেও কোনো ধরনের হাসিল বা টাকা নেয়া হচ্ছে না।
তবে এ দাবি নাকচ করেছেন একাধিক পশু বিক্রেতা ও ক্রেতা। তাদের ভাষ্য, প্রতিটি পশু বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা এবং ক্রেতার কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে; অর্থাৎ প্রতি পশুর বিপরীতে মোট ৫০০ টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এসব অর্থ অবৈধভাবে আদায় করে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে মাতামুহুরী উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী চকরিয়ার এসি ল্যান্ড রূপায়ণ দেব বলেন, বিদ্যালয় মাঠে স্থায়ীভাবে কোনো পশুর হাটের ইজারা দেয়া হয়নি। অবৈধভাবে হাট পরিচালনার খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পশু বিক্রির নামে অর্থ আদায়ের রসিদ বই জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ওই অভিযানের পরও আবার হাটের কার্যক্রম শুরু হয় এবং আগের মতোই পশু কেনাবেচা চলছে।
নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বসানো পশুরহাট সম্পূর্ণ অবৈধ। উপজেলা প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনোভাবেই এ হাট পরিচালনা করতে দেয়া হবে না। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ কার্যক্রম চালালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অন্যদিকে মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা দাবি করেছেন, বিদ্যালয় মাঠে পরিচালিত পশুর হাটের সাথে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ দিকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিদ্যালয় মাঠ থেকে অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।



