এটাই ব্রাজিলের ট্রফি জয়ের সময় : কাফু

Printed Edition
ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু
ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু

ক্রীড়া ডেস্ক

২০০২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের যৌথ আয়োজক ছিল এশিয়ার দুই দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। জাপানের ইয়োকোহামার নিসান স্টেডিয়ামে ৩০ জুন ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। সেলেকাওদের সবশেষ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুলব্যাকদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া কাফু। এরপর থেকে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা শুধুই দীর্ঘায়িত হয়েছে ব্রাজিলের। দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও ট্রফি-খরা ঘোচাতে পারেনি ফুটবলের কিংবদন্তি পেলের দেশটি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি নেইমার-ভিনিসিয়াস-এনদ্রিকদের নিয়েও কথা বলেছেন কাফু।

ব্রাজিলের সবশেষ বিশ্বকাজয়ী দলের অধিনায়ক কাফু ১৯৯৪ সালে টাইব্রেকারে ইতালিকে হারিয়ে শিরোপা জয়ী দলেও সদস্য। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতিকের কাছে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়া দলের সদস্যও ছিলেন তিনি। টানা তিন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় কাফু। স্পেনের মাদ্রিদে লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গত পরশু সাংবাদিকদের কাফু বলেন, ‘সর্বশেষ শিরোপা জয়ের ২৪ বছর পর আমি মনে করি, ব্রাজিলের জন্য এখনই বিশ্বকাপ জয়ের সঠিক সময়।’

কাফু নিজের মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন একজন কোচকে দলে এনেছি, যিনি একের পর এক শিরোপা জেতায় অভ্যস্ত। কার্লো অ্যানচেলোত্তির কথা বলছি। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের শ্রেষ্ঠত্বকে আরো বড় করে তুলবেন।’

ক্যারিয়ারে চারটি বিশ্বকাপে খেলা সাবেক এই ৫৫ বছর বয়সী রাইটব্যাকের মতে, ব্রাজিলের মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ শক্তিশালী। তাই বিশ্বকাপে মূলত রক্ষণভাগ আরো মজবুত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে অ্যানচেলোত্তিকে। কাফুর ভাষায়, ‘ব্রাজিল যদি বিশ্বকাপে গোল না খায়, তাহলে তারা নিশ্চিতভাবে প্রতি ম্যাচেই অন্তত একটি করে গোল করবে।’

ব্রাজিলের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে ভিনিসিয়াস জুনিয়র সব ধরনের বিতর্ক কাটিয়ে বিশ্বকাপে ভালো কিছু করবেন বলেই বিশ্বাস করেন কাফু। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ হলো যেকোনো ধরনের বিতর্ক কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে ভালো সুযোগ। বিশ্বকাপের সেই আটটি ম্যাচে (ফাইনালসহ) ভিনিসিয়াসের সামনে সুযোগ আছে পুরো বিশ্বের সামনে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের। পাশাপাশি ফুটবলে সে কী করতে পারে, তা দেখানোরও এটি এক দারুণ উপলক্ষ।’

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার আগমুহূর্তে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন এনদ্রিক। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অল্পসময়ের জন্য মাঠে নেমে আলো ছড়িয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিরতির পর অলিম্পিক লিওঁর হয়েও মাঠে নৈপুণ্য দেখিয়ে চলেছেন এ ফরোয়ার্ড। কাফু বলেন, ‘বিশ্বকাপেও এনদ্রিকের জন্য ভালো সময় বলে আমি মনে করি।’

আগামী বিশ্বকাপে নেইমার খেলবেন কি না- এটা এখনো নিশ্চিত নয়। তার থাকা না- থাকা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি কোচ অ্যানচেলোত্তিও। কাফু বলেন, ‘নেইমার বিশ্বকাপে খেলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র সে-ই নেবে। আসলে সে নিজেও জানে না, সে থাকবে কি না। এটা অনেকটাই সময়ের ওপর নির্ভর করছে, আর সময় তার হাতে খুব বেশি নেই।’

আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ অ্যানচেলোত্তি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। আর গ্রুপ ‘সি’তে ১৩ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরস্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে ব্রাজিল।