নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৮০ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া দুই শিশু ঢাকা ও সিলেট বিভাগে মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সময় নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৭৯ শিশু। এরমধ্যে ৮৭২ জনের দেহে হামের উপসর্গ মিলেছে। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জনের।
এ ছাড়া নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১২ শিশু, আর সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৪১ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৮২ জন।
একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ১৮৪ শিশুর। আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১৭ হাজার ৩৮৫ শিশুর। মোট হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৫৬৯ শিশু। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ১৩৪ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ১৫ হাজার ৯৮০ জন।
চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১২৮, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৪, চট্টগ্রামে ৭১, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে।
সিলেটে আরো এক শিশুর মৃত্যু
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হাম ও উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৯২ জন।
এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে। একই সময়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৭৬ জন।
গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে মারা যাওয়া শিশুটির নাম রাইহান। তার বয়স ৭ মাস। সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকপুর এলাকার বাসিন্দা। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।



