নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৮৫০ ছুঁয়েছে। সর্বশেষ রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দু’ইজন সিলেটে এবং একজন ঢাকা বিভাগে মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সময় নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৭৪ শিশু। এর মধ্যে ৯৬১ জনের দেহে হামের উপসর্গ মিলেছে। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৩ জনের। এ ছাড়া নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০২ শিশু, আর সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৯৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭৫১ জন।
একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৪৪ শিশুর। আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১৬ হাজার ৪০৮ শিশুর। মোট হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৪৫২ শিশু। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫২২ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ৯ হাজার ১৭৯ জন।
চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১১৬, রাজশাহীতে ৯৫, ময়মনসিংহে ৭৩, চট্টগ্রামে ৭১, বরিশালে ৬৪, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১২ জন মারা গেছে।
সিলেটে আরো ২ শিশুর মৃত্যু : সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ জনে। একই সময়ে নতুন করে ২৮ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৯০ জন।
গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য অধিদতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬ মাসের শিশু রেজওয়ান সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ও ৬ মাসে ইব্রাহিম একই জেলার সদর উপজেলার বাসিন্দা। নতুন করে ভর্তি হওয়া ৯০ জনসহ বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৪৮ জন।



