জিলানী মিলটন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের ৯ জন কর্মকর্তা চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাদের ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, আদালতের রায় ঘোষণার পর পুলিশ সদর দফতর থেকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মানুগ আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
২০১৮ সালের সরকারি আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা এক বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তাহলে তিনি আদেশ দেয়ার তারিখ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হবেন।
ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হচ্ছেন- সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো: আখতারুল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম।
পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, আদালতের রায়ের পর সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
জানা গেছে, গত ৬ জুলাই পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আদালতের রায়, সাজা পরোয়ানা ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অপরাধে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ২ আদালত। ট্রাইব্যুনাল মূলত ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) এবং সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই সাজা দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি ১ ও ২) সাজার পরোয়ানা, রায় ও আদেশনামা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদমর্যাদার ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে পুলিশ সদর দফতর।
এদের মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রাজশাহী-রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রাজশাহীর সারদা বিপিএ-তে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলার প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো: আখতারুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সিলেটে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কক্সবাজারের উখিয়া ১৪ এপিবিএনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আবদুল্লাহিল কাফীকে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন। সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর গ্রেফতার করে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন।



