ছাগলনাইয়ায় বালু ব্যবসার বিরোধের মামলায় বিএনপি নেতা ছিদ্দিকী গ্রেফতার

Printed Edition

ছাগলনাইয়া-পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ফেনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, সরকারিভাবে জব্দকৃত বালু বিক্রির টাকা ভাগ-বাটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার আসামি বিএনপি নেতা আলমগীর ছিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিএনপির আলমগীর ছিদ্দিকী গ্রুপের সাথে রিয়াজ উদ্দিন টিপু গ্রুপের মারামারির ঘটনায় দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় গতকাল শুক্রবার ভোরে রাজধানীর একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ। গতকালই তাকে ফেনীর আদালতে হাজির করা হয় বলে জানিয়েছেন ছাগলনাইয়া থানার ওসি মো: আবু তাহের।

জানা গেছে, ছাগলনাইয়ার শুভপুরে ফেনী নদীর বালুমহালে জব্দকৃত সরকারি বালু বিক্রি, অবৈধভাবে উত্তোলন ও বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ২৫ জুলাই রাতে ছাগলনাইয়া পৌরশহরের শহীদ মিনারের সামনে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিএনপি নেতা রিয়াজ উদ্দিন টিপুসহ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় আলমগীর ছিদ্দিকীকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা চেষ্টার মামলা করেন রিয়াজ উদ্দিন টিপু। অপরদিকে, আলমগীর ছিদ্দিকীর সমর্থক মো: হানিফকে মারধরের অভিযোগে রিয়াজ উদ্দিন টিপুকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে পাল্টা মামলা করেন মো: হানিফ।

এদিকে, গত বুধবার আলমগীর ছিদ্দিকীর সমর্থকরা নিজের লোকদের মারধর ও মামলার প্রতিবাদে ছাগলনাইয়া পৌরশহরে মানববন্ধন ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। তবে যেকোনো ধরনের সঙ্ঘাত এড়াতে দিনভর শহরে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব পুলিশের তল্লাশি ও বাধার কারণে সমাবেশ করতে পারেনি উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ছিদ্দিকীর লোকেরা। এ নিয়ে পুলিশের সাথে ছিদ্দিকীর সমর্থকদের ধস্তাধস্তির ঘটনায় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

এ ব্যাপারে ফেনী-১ আসনের এমপি মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেছেন, যারাই সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের জানমাল ও শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য হুমকি হবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুয়ায়ী ব্যবস্থা নিবে, এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না।