বরই গাছের সারি
আবু সাইদ কামাল
স্কুলে তখন টিফিন হলে যেতাম নদীর পাড়ে
পাহাড়ি সেই নদীর কিনার আজো দৃষ্টি কাড়ে
নদীর পাড়ে ছিল তখন বরই গাছের সারি
গাঁয়ের বালক ছিলাম বলে গাছেও উঠতে পারি।
ঢিল ছুড়ে বা গাছে উঠে পাড়তাম বরই কত
কাঁচা-পাকা বরই খেতাম ইচ্ছে হতো যত
ছয় দশক পর একই দৃশ্যে ছেলেদেরকে দেখে
আমিও শৈশব ডেকে আনি সুদূর অতীত থেকে।
তাদের সাথে মিশে গেলাম বরই গাছের তলে
শৈশবের সেই স্মৃতি নিয়ে নদীও কথা বলে
কাছে থেকে গারো পাহাড় দিল তখন সাড়া
পাহাড় নদীর সম্মিলনে হলাম আত্মহারা।
স্কুল নদী আর গারো পাহাড় ছেলেবেলার সাথী
শৈশবের সেই স্মৃতি নিয়ে করি মাতামাতি।
নাম ঠিকানা
আলমগীর কবির
চুপি চুপি পা ফেলে যাই
শুকনো পাতার ঘুম ভেঙে যায় যদি
একা একা ছুটতে থাকি
ডাকছে আমায় দুরন্ত এক নদী।
নদীর গল্প নদী শোনায়
পাখির গল্প শোনায় বনের পাখি
ছুটতে ছুটতে আমার তখন
নদীর নতুন বাঁক পেরুনো বাকি!
ঘুম ভাঙা এক দুপুর ডেকে
দেয় স্বপ্নের রঙিন ঝাঁপি খুলে
একে একে হাতছানি দেয়
যে স্বপ্নকে গিয়েছিলাম ভুলে।
কলমিলতায় রাঙা ফড়িং
নাচে ডানায় মেখে রোদের গুঁড়ো
হাওয়াতে পাই শৈশবের ঘ্রাণ
উদাস করে চেনা পাখির সুরও!
আকাশ বিছায় নীলের চাদর
দূরের কোনো সবুজ গাঁয়ের কাছে
ছুটছি সেই না গাঁয়ের খোঁজে
নাম ঠিকানা বুকে লেখা আছে।
প্রভু দয়াময়
আব্দুস সবুর
রাত্রি শেষে শুভ্র ভোরের আলো ফোটায় কে?
দিবস শেষে সাঁঝের বেলায় আঁধার নামায় কে?
কার দয়াতে পাখপাখালি আকাশ নীলে উড়ে?
কার মহিমায় গাহে কোকিল মুহুর্মুহু সুরে?
কে দিয়েছেন ফুলের মাঝে মন মাতানো ঘ্রাণ?
কে দিয়েছেন নদীর বুকে ঢেউয়ের কলতান?
তিনি তো সে মালিক মহান প্রভু দয়াময়
যার ইশারায় সৃষ্টি ভূমি সৃষ্টি বিশ্বময়।
ইচ্ছা
আলাউদ্দিন আজাদ
আকাশ হবো, বাতাস হবো
হবো রোদের ভেলা
প্রজাপতি ডানায় চড়ে
উড়ব সারা বেলা।
টিয়া হবো, ময়না হবো
গাইব সুরে গান
ঝরনা হয়ে নামবো নিচে
নদীর মতো প্রাণ।
চাঁদ হবো, সূর্য হবো
পূর্ণিমার আলো
জোনাক হয়ে দূর করব
যত আঁধার কালো।
ফড়িং হবো, পাহাড় হবো
হবো নীলাকাশ
ফুল হবো, পরি হবো
হবো শুভ্র কাশ।
রোজাদার
আশরাফুল আলম
রোজাদার রোজাদার
ও ভাই-রোজাদার
সূর্যটা ডুবে গেলে
করিও ইফতার।
রোজা রাখলে অনেক নেকি
গোনা হবে মাফ
তাকওয়া অর্জন হবে
দিলটা হবে সাফ
রোজা হলো শয়তান থেকে
বাঁচার হাতিয়ার।
তোমার সাথে ঝগড়া করতে
আসলে কোনো লোক
কইও তাঁকে রোজা আমি
থাকতে হবে চুপ
পরহেজ করে চলতে হবে
সকল পাপাচার।
রোজাদারের পক্ষে রোজা
করবে সুপারিশ
প্রমাণ আছে ভাই-রে
নবীজির হাদিস
রমজান এলে খোলা থাকে
জান্নাতেরই দ্বার।
রোজার শেষে অবশেষে
আসে যখন ঈদ
অনাবিল সুখে যেন
ভরে যায় হৃদ
অমন করে বছর ঘুরে
আসে বারবার।
খুকির টিয়া
শামীমা জান্নাত শিউলী
খুকির একটি টিয়া ছিল
ভীষণ ভালো বাসত
খুকির মুখটা দেখলে টিয়া
খুশিতে সে হাসত।
টিয়া ছিল খুকির কাছে
ছোট্ট বন্ধুর মতো
দু’জন মিলে গল্প করত
হেসে খেলে কত।
সারাটা দিন খুকির সাথে
করত টিয়া খেলা
খুকির সাথে ছোট্ট টিয়া
দেখতে যেত মেলা।
খুকির মনটা খারাপ হলে
টিয়া পাখি নাচত
নাচ দেখিয়া খুকি তখন
খিলখিলিয়ে হাসত।
ইচ্ছে করে
নাঈমুল হাসান তানযীম
ইচ্ছে করে তারা হয়ে
দূর আকাশে জ্বলতে
ইচ্ছে করে পাখির মতোন
শূন্যে ভেসে চলতে।
ইচ্ছে করে নদীর মতোন
কলকলিয়ে বইতে
ইচ্ছে করে জলের ভেতর
মাছের মতো রইতে।
ইচ্ছে করে ফুলবাগানে
ঘ্রাণ ছড়িয়ে থাকতে
ইচ্ছে করে ভ্রমর হয়ে
মধু গায়ে মাখতে।
ইচ্ছে করে ইচ্ছে করে
কত্ত কিছু করতে
সবচেয়ে বেশি ইচ্ছে করে
সোনার জীবন গড়তে।
বাবা
মোশাররফ হোসেন
পাশে থাকলে বাবা আমার
করে না তো ভয়
মনে ভাবি এই পৃথিবী
করতে পারি জয়।
বটের ছায়ায় প্রাণ জুড়িয়ে
যেমন শীতল হয়
পাশে থাকলে বাবা আমার
তেমন মনে হয়।
বাবার ছায়া বটের মতোই
মাথার উপর রয়
বাবার মাথায় বটের ছায়া
হও গো দয়াময়।
রমজান
শ্যামল বণিক অঞ্জন
পশ্চিমের আকাশে
বাঁকা ফালি চাঁদ হাসে
বিশুদ্ধ বাতাসে
মন প্রাণ গা ভাসে।
এসে গেল রমজান
সংযমে বাঁধো প্রাণ
ইবাদতে দাও ডুব
ভুলে জেদ ক্রোধ লোভ।
দমে রাখো নাম তার
এই ধরা ধাম যার
সে রহিম রহমান
দয়া সাগর বহমান।



