ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘হাদির ওপর হামলা মানে আমাদের ওপর হামলা। যারা জুলাই আন্দোলনের অংশীদার, তাদের সবাইকে লক্ষ্য করেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।’
গত শুক্রবার দুপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে হাদি বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। হামলার ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দলই এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
নাহিদ বলেন, আমাদের ব্যানার ভিন্ন হতে পারে কিন্তু তিনি আমাদের সহযোদ্ধা। এই হামলার পেছনে দায়ীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক আরো বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে জুলাই প্রশ্নে আমরা এক। হাদির ওপর হামলার দায় যাদের, তাদেরকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। এই ঘটনার জবাব দিতে হবে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সহযোদ্ধা ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জুলাইযোদ্ধা শহীদ পরিবার সবাই শঙ্কায় আছেন। হাদি ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। এই ঘটনার পেছনে বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা আবারও প্রতিরোধ করব।’
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘সরকারকে আমরা বলব, লাস্ট চান্স দিচ্ছি। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে আমরা সরকারের বিরুদ্ধে সিরিয়াস অ্যাকশনে যাব।
এনসিপির তীব্র নিন্দা ও সুস্থতা কামনা
রাজধানীর বিজয়নগরে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকাশ্য দিবালোকে চালানো এই সন্ত্রাসী হামলা শুধু একজন প্রার্থীকে নয়, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকেই লক্ষ্য করে হয়েছে।
বিবৃতিতে এনসিপি গুরুতর আহত শরিফ ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তার প্রতি সংহতি জানায়।
দলটির অভিযোগ, হাদি আগে থেকেই প্রকাশ্যে হুমকির কথা জানালেও সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এনসিপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল হামলা ও একাধিক নেতাকে হুমকি দেয়ার ঘটনার পরেও নিরাপত্তা জোরদার না হওয়াকে ‘সরকারের ব্যর্থতা’ বলে উল্লেখ করেছে দলটি।
এনসিপির দাবি, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘অবশিষ্ট সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’ এখনো সক্রিয় এবং এ হামলার মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। দলটি বলেছে, প্রকৃত হামলাকারী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিবৃতিতে এনসিপি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক দোষারোপ না করে গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে গোষ্ঠীগত বিভাজনকে কাজে লাগাতে পারে ‘পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি’- যা অতীতেও সহিংসতার মাধ্যমে রাজনীতি দূষিত করেছে।
হামলার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেফতার, হুমকির উৎস উদ্ঘাটন এবং সব প্রার্থী ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনসিপি।
দলটি জানায়, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতেই তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।



