নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি সরকার গণভোটের রায় বাতিল করে দিয়েছে। যেই সরকার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাতিল করে তাদেরকে জনগণের সরকার বলা যায় না। কোনো ফ্যাসিবাদী সরকারকে বাংলাদেশের জনগণ বেশিদিন বরদাস্ত করেনি, করবে না। বর্তমান সরকার হাসিনার পথে, তার হাসিনার মতোই বিদায় নিতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য জনগণ জুলাই বিপ্লবে জীবন এবং গণভোটে সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। সরকার গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে আজ হোক, কাল হোক নাকে খত দিয়ে বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও মেনে নিতে চায়নি। পরবর্তীতে আন্দোলনের তোপে নাকে খত দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় হয়েছিল। এখনো সময় থাকতে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, যারা বিপ্লবের ফসল ভোগ করছে, তারা বিপ্লবকে অস্বীকার করছে। বিপ্লব পরবর্তী সরকার জনগণের সরকারে পরিণত হতে পারেনি। দলীয় সরকারে পরিণত হয়েছে। যার কারণে তারা সর্বত্র দলীয়করণ করছে। রাষ্ট্রীয় এবং সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দিচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত দলীয় প্রার্থী ও দলীয় নেতাদের সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনের পর সংস্কারের পরিবর্তে পুরনো ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে। তারা নির্লজ্জের মতো বলছে, নির্বাচনের জন্য তারা সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে! যারা কথা দিয়ে কথা রাখে না তারাই প্রতারক, তারই মোনাফেক। বিএনপি জাতির সাথে প্রতারণা করেছে, মোনাফেকি করছে।
জনসভায় আরো বক্তৃতা করেন- কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জসীম উদ্দীন সরকার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, আব্দুর রহমান প্রমুখ।



