নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশের বিভিন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই মোটরসাইকেল আরোহী।
কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, খুলনার কয়রায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাব্বির হোসেন (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা তার চাচাতো ভাই রাজ (২০) নামে আরেক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত সাব্বির হোসেন উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের মাওলানা আবুল বাশারের ছোট ছেলে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়রা-বেতগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের ফুলতলা বাজার এলকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি কয়রা সদরের দিকে যাচ্ছিল। ফুলতলা বাজারের উত্তর পাশের একটি বাঁক ঘোরার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাব্বির হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রাজের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের চিরিরবন্দর উপজেলার চম্পাতলী বাজারের পূর্বে তৈইপাড়া নামক স্থানে শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাসের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো: রাকিব হোসেন (২৭)। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিহরপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগন দশমাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
দশমাইল হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিব হোসেন মোটরসাইকেলে করে সৈয়দপুর যাওয়ার সময় সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ ঘটনায় ঘাতক গাড়ির চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দশমাইল হাইওয়ে মহাসড়ক প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দু’পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির রাজাপুরে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে ইজিবাইক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজাপুর-ভাণ্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সমবায় নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমবায় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সাথে ইজিবাইকটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক খলিলুর রহমান (৪৫) প্রাণ হারান। তিনি উপজেলার পুটিয়াখালি গ্রামের বাসিন্দা। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
‘দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় দ্রুতগামী বাসের চাপায় আরএফএল কোম্পানির এসএর মৃত্যু হয়েছে। সকালে উপজেলার ৩ নম্বর ফতেজংপুর ইউনিয়নের চম্পাতলী বাজারের পূর্বে তৈইপাড়া নামক স্থানে দশমাইল হাইওয়ে মহাসড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি হলেন, মো: রাকিব হোসেন (২৭)। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিহরপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
দশমাইল হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরবেলা ঠাকুরগাঁও থেকে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর আরএফএল কোম্পানিতে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অজ্ঞাত গাড়ির চালক দ্রুত বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল চালক দশমাইল হাইওয়ে মহাসড়কের পাকা রাস্তার ওপর পড়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চালক গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে একটি দ্রুতগামী বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই মো: জাবেদ (৩২) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। গতকাল মহাসড়কের গাছবাড়িয়া বুলার তালুক এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক উপজেলার সাতবাড়িয়া পূর্ব সাতবাড়িয়া হাজিরপাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ রফিকের ছেলে। তার স্ত্রী ও এক বছরের একটি ছেলে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মো: জাবেদ মোটরসাইকেলে গাছবাড়িয়া খানহাটে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আসছিল। এ সময় কক্সবাজারমুখী একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলসহ তাকে কক্সবাজার মুখে অন্তত ৫০-৬০ গজ দূরে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে জাবেদের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট নগরীর বালুচরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর। শুক্রবার বালুচর সড়কের মাদানি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম মাজহারুল ইসলাম রানা (১৫)। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে নিহতের বন্ধু মো: লিজান (১৪)।
নিহত মাজহারুল ইসলাম নগরের উপশহর সি-ব্লকের মোহাম্মদ রাজু মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত মো: লিজান উপশহর বি-ব্লকের বাসিন্দা জালাল উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নগরের বালুচর মাদানি এলাকায় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে ফুটপাথে উঠে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে মাজহারুল ইসলাম রানা মারা যায়। গুরুতর আহত মো: লিজানকে সিএনজি অটোরিকশায় করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।



