প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণে আসছে ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেন

দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আরো সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধন, পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো, শিক্ষার মান এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। একই সাথে অনিবন্ধিত বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition
  • নজরদারির সাথে বাড়বে জবাবদিহিতা
  • দক্ষ জনশক্তিতে সাজানো হবে ডিপিই

দেশের ৪০ হাজারের বেশি কিন্ডারগার্টেন তথা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই সাথে এসব প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে জবাবদিহিতাও। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আরো সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধন, পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো, শিক্ষার মান এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। একই সাথে অনিবন্ধিত বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামীতে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নজরদারিতে আসবে। এর ফলে অধিদফতরের পাশাপাশি ডিডি, ডিপিও, এটিইওদের দায়িত্ব আরো বাড়বে।

সরকারি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে অনেক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিবন্ধনবিহীন কার্যক্রম, অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং দুর্বল একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে একটি অভিন্ন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নতুন নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

এ দিকে শিক্ষা খাতে জবাবদিহি বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা, নিবন্ধন ও পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না বলে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি না থাকায় অনেক এলাকায় শিক্ষার মানে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের একটি অংশের দাবি, কেবল তদারকি বাড়ালেই হবে না; নিবন্ধিত বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষাসামগ্রী, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কারিগরি সহায়তাও বাড়াতে হবে। অন্যথায় দুর্বল বিদ্যালয়গুলো আরো সঙ্কটে পড়তে পারে।

অন্য দিকে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ৩৪ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও নীতিগত সংস্কারের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি, মাননিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় এনে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার দিকেই এগোচ্ছে সরকার। তবে এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থার ওপর। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ডিডি, ডিপিও, এটিইওদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেছেন আগামীতে আপনাদের দায়িত্ব বাড়বে, অবস্থার উন্নতি হবে, বেতন-ভাতা সামাজিক অবস্থা বাড়বে, পাশাপাশি দায়িত্বও বাড়বে। প্রাইভেট স্কুলগুলো আপনাদের অধীনে আসবে। আপনাদের মনিটরিং করতে হবে। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশেনের মহাসচিব মো: মিজানুর রহমান সরকার। তিনি নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আমরা চাই দেশের কমবেশি ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেনকে শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়; একই সাথে এ সবের দেখভালও সরকার করুক।