ডাচদের হারানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে সুইডিশরা

Printed Edition
প্রথম ম্যাচে ড্র করা নেদারল্যান্ডস পরের ম্যাচে জয়ের জন্য পূর্ণমনোযোগ প্র্যাকটিসে (বাঁয়ে), এ দিকে অনুশীলনে শীর্ষে থাকার প্রত্যয় সুইডেনের  : ইন্টারনেট
প্রথম ম্যাচে ড্র করা নেদারল্যান্ডস পরের ম্যাচে জয়ের জন্য পূর্ণমনোযোগ প্র্যাকটিসে (বাঁয়ে), এ দিকে অনুশীলনে শীর্ষে থাকার প্রত্যয় সুইডেনের : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

হিউস্টন স্টেডিয়ামের ভেতরে আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। আজ তীব্র গরমের পূর্বাভাস থাকায় নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেনের ম্যাচটিতে তাপমাত্র নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি হবে আশীর্বাদস্বরূপ। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই নেদারল্যান্ডসের। ইনজুরিমুক্ত রয়েছে সুইডিশ শিবিরও। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মুখোমুখি মাঠের লড়াইয়ে নামবে দুই দল। সব প্রতিযোগিতা মিলে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ডাচরা। ২৫টি ম্যাচের মধ্যে তারা ১২টি জয়ের বিপরীতে হেরেছে আটটিতে। এবার দুই দলেরই এগিয়ে যাওয়ার পালা।

তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বর্তমানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষে অবস্থান করছে সুইডেন। উদ্বোধনী ম্যাচে তিউনিসদের বিপক্ষে করা পাঁচটি গোল ইতোমধ্যেই ২০১৮ বিশ্বকাপের পুরো গ্রুপ পর্বের মোট গোলের সমান হয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের আগের ছয়টি সংস্করণের মধ্যে মাত্র একটিতে তারা গ্রুপ পর্বে এর চেয়ে বেশি গোল করেছে (১৯৯৪ সালে ছয়টি)।

সুইডেনের হয়ে প্রথম একাদশে থাকবেন গায়কেরেস ও ইসাক। উদ্বোধনী ম্যাচে দু’জনেই তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গোল করেছিলেন। পারফরম্যান্স বিবেচনায় অ্যান্থনি এলাঙ্গার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। দুর্দান্ত খেলছিলেন ২২ বছর বয়সী ইয়াসিন আয়ারি। দুইবার জালে বলও জড়িয়েছিলেন মাঝমাঠের এই খেলোয়াড়। ফলে নিশ্চিতভাবেই জায়গা ধরে রাখবেন তিনি।

বিশ্বকাপে সুইডেনের সর্বকালের সেরা সাফল্য এসেছিল ১৯৫৮ সালে নিজেদের মাটিতে (রানার্সআপ)। ২০১৮ সালের প্রতিযোগিতায় তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেও ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

জাপানের সাথে ২-২ গোলে ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেদারল্যান্ডস। গত ম্যাচে এশিয়ার দেশটির বিপক্ষে দুইবার এগিয়ে গিয়েও ৩ পয়েন্ট ধরে রাখতে পারেনি তারা। ফলে সুইডেনের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে কিছুটা চাপে আছে রোনাল্ড কোম্যানের দল। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবে বহুবার শুরু করে কখনো ট্রফি জয় হয়নি নেদারল্যান্ডসের। এর আগে তিনবার রানার্স-আপ হয়েছে, যার সবশেষ ২০১০ সালে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও, ২০২২ সালের প্রতিযোগিতায় কোয়ার্টার-ফাইনালেই যাত্রা শেষ হয়ে যায়।

নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ কোম্যান এই ম্যাচে অপরিবর্তিত একাদশ ঘোষণা করতে পারেন। কারণ জাপানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের চোটের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক ফিটনেস সমস্যার কারণে বেঞ্চ থেকে শুরু করতে হতে পারে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেম্ফিস ডিপাইয়ের। আগের ম্যাচে পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা সত্ত্বেও একাদশে থাকার সম্ভাবনা বেশি কোডি গাকপোর। রক্ষণভাগের চারজন খেলোয়াড় নিশ্চিতভাবেই অপরিবর্তিত থাকবে। ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের সাথে মধ্যমাঠের কেন্দ্র থাকবেন রায়ান গ্রাভেনবার্চ ও তিজ্জানি রেইন্ডার্স।

নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপের শেষ ১৩টি ম্যাচে (নির্ধারিত সময়ে) অপরাজিত রয়েছে। এটি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যেকোনো দলের দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড। যে রেকর্ডটি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে করেছিল ব্রাজিল। এবার সেলেকাওদের সাথে যৌথভাবে রেকর্ডটি ভাগ বসিয়েছে ডাচরা। নির্ধারিত সময়ে স্পেনের বিপক্ষে টোটাল ফুটবলের দেশটির শেষ পরাজয়টি এসেছিল ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। তবে এবার রেকর্ডটিকে এককভাবে নিজেদের করে নেয়ার সামনে ডাচরা।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে (৩২-এ) পৌঁছানোর জন্য শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে সুইডেনকে। গ্রাহাম পটারের দল নেদারল্যান্ডসকে হারাতে পারলেই পরবর্তী পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া জাপান যদি তিউনিসিয়াকে হারাতে না পারে, তবে একটি জয় পেলেই তারা গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষস্থান দখল করবে।

বিশ্বকাপে দল দু’টি দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হবে। এর আগে ১৯৭৪ সালে গ্রুপ পর্বে তাদের লড়াইটি গোলশূন্যভাবে শেষ হয়েছিল। সে বছর ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল নেদারল্যান্ডস।